যমুনার পাড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৩, ০৫:৪৪ পিএম

বালু মহলের বাইরে বালু উত্তোলন বন্ধ ও কাওয়াকোলার বিলীনের হাত থেকে রক্ষা করতে মানববন্ধন করেছে কাওয়াকোলাবাসী।

বুধবার (১০ মে ) সকাল ৯টায় ঘন্টাব্যাপী কাওয়াকোলা ইউনিয়নের কাওয়াকোলা গ্রামের যমুনা নদী ভাঙ্গন স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলার ইউনিয়নে ৩ টি-কৈগাড়ী দোরতা, চান্ডাল বয়ড়া ও জিয়ারপাড়া বালু মহল রয়েছে। সরকার ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহবান করেছে। টেন্ডার অনুযায়ী ইজারার মুল্য সরকারের রাজস্বখাতে জমা দিয়ে বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন করছে। 

তবে জিয়ারপাড়া বালু মহলের ইজারাদার মৃত ফয়সাল ওয়াহিদ বাবুর উত্তরসূরী বদরুল আলম দুলাল গং বাইরে থেকে কাওয়াকোলা ও দোগাছী মৌজা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

বক্তারা আরো বলেন, জিয়ারপাড়া মৌজার আয়তন ১১.৪৪ একর (৩৫ বিঘা)। জিয়ারপাড়া বালুমহলের পশ্চিমে কুড়িপাড়া-চিথুলিয়া গ্রাম-সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, উত্তরে হাটবয়ড়া, পুর্বে কাওয়াকোলা ও দোগাছি মৌজা, দক্ষিন বাঙ্গালপাড়া ও চান্ডালপাড়া গ্রাম রয়েছে।

বর্তমানে জিয়ারপাড়া বালু মহলের পশ্চিমে কুড়িপাড়া-চিথুলিয়া সম্পুর্ন যমুনা নদীতে। উত্তরে হাটবয়ড়া সম্পূর্ন যমুনা নদীতে, পুর্বে কাওয়াকোলার অর্ধেক যমুনা নদীতে, বাকী অর্ধেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি রয়েছে এবং দোগাছিতে বাড়িঘর ও ফসলি জমি রয়েছে। দক্ষিনে বাঙ্গালপাড়া ও চান্ডাল বয়ড়া সম্পূর্ন যমুনা নদীতে।

জিয়ারপাড়া বালুমহলের ইজারাদার জিয়ারপাড়া মৌজার ১১.৪৪ একর জায়গায় ড্রেজার না লাগিয়ে কাওয়াকোলা ও দোগাছী গ্রামে বাড়িঘর, ফসলি জমির নদী তীরবর্তী স্থানে ২০টি ড্রেজার বালু উত্তোলন করে প্রতি বলগেটের মুল্য ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ভূয়াপুরের গোবিন্দদাসী হাট থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের বালু ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছে।

বক্তারা আরো বলেন, বালুখেকোরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারনে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের আবাদি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কাওয়াকলা ইউনিয়ন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বালু উত্তোলণের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের ফসলী জমী, বসত বাড়ীঘর, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, মুজিবকেল্লা ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, আমরা ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়ন বাসী পাড়ভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করি। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তক জিয়ারপাড়া বালু মহুল ইজারা দিয়েছেন যাহা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত অথচ কতিপয় বালুদুস্য  বদরুল আলম, গোলাম মোস্তফা সোহাগ, তৌহিদুল ইসলাম তাপস, তোফাজ্জল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম, বাবু খান জোরপুর্বক অবৈধ ভাবে নদীর পূর্ব পাড়ে অর্থ্যাৎ কাওয়াকোলা ইউনিয়নের জিয়ারপাড়া মহলের বাইরে কাওয়াকোলা ও দোগাছীর মধ্যে বালু উত্তোলন করছে, যাহা নিয়ম বর্হিভূত ও আইন পরিপন্থি।

বক্তারা আরো বলেন, আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী সেখ হাসিনা আমাদের অবহেলিত ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়নে অনেক উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন। যেমন: বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করেছেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ,মুজিবকেল্লা ও পাকা রাস্তা নির্মান করেছেন এবং ভূমিহীনদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। 

এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী সেখ হাসিনা কে ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। আর আজকে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারনে এইসব উন্নয়ন মুলক কাজ হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে।  ইতিমধ্য কাওয়াকোলা কমিউনিটি ক্লিনিক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এহীন অন্যায় এর বিরুদ্ধে আমরা ৮নং কাওয়াকোলা ইউনিয়নবাসী মানববন্ধনে সমবেত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কাওয়াকোলা ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক আলী আশরাফ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সার্জেন্ট (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, মুরুব্বি নওশের আলী, নামদার মন্ডল , বুলবুল আহম্মেদ, সরোয়ার হোসেন, সোহরাব আলী, আকরাম হোসেন হীরা প্রমুখ।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম রকিবুল হাসান জানান, জিয়ারপাড়া বালু মহল সীমানা নির্ধারন করে ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। মহলের বাইরে বালু উত্তোলন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বালু মহলের সীমানার চারিদিকে বয়া স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, জিয়ারপাড়া বালু মহাল ইজারা  দিয়েছি। বালু মহালে তফসিল অনুযায়ী জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমরা এটি মনিটরিং করছি। খোঁজ খবর নিচ্ছি তারা তফসিল অনুযায়ী বালু উত্তোলন করছে। 

তবে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছে যে, ইজারাদার অবৈধ ভাবে অন্য জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছে। এই অভিযোগটি সঠিক না। তবে এলাকার লোকজন যদি মনে করে বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার ক্ষতি হবে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে যাবে আমরা সেটি পরীক্ষা করে দেখবো। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সাথে নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এইচআর