নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলাসহ দেশের উত্তর জনপদের মানুষের পাইলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের দাবী ছিল দীর্ঘদিন ধরে। ২০১১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রংপুরে সফরে এলে উত্তর অঞ্চলের মানুষকে গ্যাস পৌছে দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই ওয়াদা অনুযায়ী এ প্রকল্প এখন দৃশ্যমাণ।
এরই মধ্যে বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে হয়তো আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌছে যাবে রংপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ উত্তর জনপদের ১১ জেলায়। গ্যাস আসার খবরে উত্তর অঞ্চলের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষের মনে হাসির জোয়ার বইছে। তারা বলছেন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। এতে করে মানুষের জীবনের মান উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায় ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী রংপুর সফরে এলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাস্তবায়নের প্রতি¯্রুতি দেন। এরপর ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে এক নেক সভায় পীরগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী শহর ও পথ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বিতরন নেটওয়ার্ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় পাইপলাইন বসানোর কাজ। জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন পশ্চিমঅঞ্চলের গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড (পিজিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বগুড়া থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত ১৫০ কি.মি গ্যাস লাইন স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন জোরেসোরে চলছে সি.জি.এস ওরই টি.বি.এস নির্মাণের কাজ। দুটি টি.বি.এস হচ্ছে রংপুর ও পীরগঞ্জে।
এছাড়াও গ্যাস সরবরাহের জন্য রংপুর, পীরগঞ্জ ও নীলফামারীর সৈয়দপুর মিলে ৩টি স্টেশন নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। সৈয়দপুর গ্যাস সরবরাহ স্টেশনটি ১০০ মিলিয়ন ক্ষমতা সম্পন্ন। নীলফামারীর চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিস সভাপতি এস.এম সফিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন আমাদের এখানে ইপিজেড আছে গ্যাস এলে নতুন নতুন শিল্প কারখানা সুযোগ তৈরী হবে এবং লেবার কষ্ট কম থাকায় শিল্পের অপার সম্ভাবনা আছে।
সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি মোখছেদুল মোমিন বলেন উত্তরাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিকের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে কৃষি। এ অঞ্চলের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা চলে কৃষির উপর নির্ভর করে। ফলে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় তারা বেকার থাকেন এবার ঘুরে দাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। গ্যাস আসায় এখন এ অঞ্চলে গড়ে উঠবে ভারী ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও বাড়বে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপক দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন অনেক চ্যালেন্স থাকা সত্তে¡ও সকলের সহায়তায় কাজগুলো সফলভাবে করেছি। আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে ১১টি জেলায় গ্যাস সরবরাহ করতে পারব। তিনি আরো বলেন প্রকল্পের গ্যাস সরবরাহ করার জন্য আমাদের ৩টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুরে ১০০ মিলিয়ন, রংপুরে ৫০ মিলিয়ন ও পীরগঞ্জে ২০ মিলিয়ন ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেশন রয়েছে।
আরএস