দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

তীব্র শীতে থমকে গেছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৪, ০৬:০২ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় গত কয়েকদিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও ঘনকুয়াশায় চুয়াডাঙ্গার গনমানুষের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা জেলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ সহ সকলেই। ঘন ভোরে ও রাতে কুয়াশা আর সারাদিনের হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। হিমেল হাওয়ায় ও শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ আর ছিন্নমূল খেটে খাওয়া মানুষ।

অনেকেই তীব্র শীতে পাড়া-মহল্লায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। সোমবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে বিপাকে জনসাধারণ।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহমান রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আকাশে আজ সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও তীব্র শীতে থমকে হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আতাউর রহমান জানান গত তিন দিনে শিশুসহ প্রায় ২ হাজার রোগী ঠান্ডাজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে  আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন ও অনেক রোগী ভর্তি আছেন

আলমডাঙ্গার বেলগাছির কৃষক এরশাদ আলী বলেন, তীব্র শীতে ফসল ক্ষেতে যেতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, প্রচন্ড শীতে বাইরে বের হলে ঠান্ডা জরে আক্রান্ত হবার ভয়ে বের হতে পারছি না, এবং জনপাট পাওয়া যাচ্ছে না  এর ফলে ফসল ক্ষেতে পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে।

জীবননগরে পাখি ভ্যান চালক আসাদুল বলেন, তীব্র শীত আর বাতাসের কারণে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে  রাস্তায় তেমন কোনো যাত্রী নেই। রাস্তায় বের হলেই ঠান্ডায় হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর পিটিআই মোরে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুররা জানান, ঠান্ডায় শরীর অবশ হয়ে আসে, তবুও কাজ করতে হয়, তীব্র শীতে অনেকেই কাজে আসেনি। যারা এসেছেন তারাও দেরিতে এসেছেন। কনকনে শীত সঙ্গে বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারপরও থেমে নেই কাজ। বাধ্য হয়েই কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে

দামুড়হুদার নতিপোতার কৃষক স্বাধীন আলী বলেন, ক্ষুধার তাগিদে ভোর থেকেই কৃষি জমিতে কাজ করছি। অতিরিক্ত ঠান্ডায় হাত চলছে না। সঙ্গে বাতাস শরীর কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের বৃদ্ধ শমসের আলী জানান তীব্র শীতে ও ঘন কুয়াশায় কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হতে পারছি না, আবার বাইরে না গেলেও দুমুঠো ভাত জুঠছে না, এবছর তেমন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না, সরকার থেকে একটা কম্বল দিয়েছিলো তাছাড়া আর কোন কিছু পায়নি

চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ সারাদেশের হোম ডেলিভারি রিডেক্স কুরিয়ারের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, তিব্র শীতে কুয়াশার প্রভাবে প্রান্ত্রিক পর্যায়ে হোম ডেলিভারি দিতে অসুবিধা হচ্ছে, আমাদের বেশিরভাগ ডেলিভারী ম্যান ঠান্ডা জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, আমরা তারপরেও গ্রাহকদের সর্বোচ্চো সেবা দিচ্ছি। চুয়াডাঙ্গা রবি আজিয়াটা লিমিটেড কোম্পানির ম্যানেজার সাদিকুল ইসলাম জানান তিব্র শীতে আমাদের এস আর দের সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মার্কেটে থাকতে হয়,এর ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তারপরেও জেলার রবি গ্রাহকদের সেবায় আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম ফুড ডেলিভারি সার্ভিস কোম্পানি ফুড কালেকশন জানিয়েছে তিব্র শীতে তেমন অর্ডার পাচ্ছি না তবে যেসব অর্ডার পড়ছে সেগুলো আমার দ্রুত ডেলিভারি করছি।

ওদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার, রাজনীতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ শীতার্ত ছিন্নমূল গনমানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে। শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ জেলার সকল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের ও চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন তীব্র শীতেও চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগ কৃষকদের সেবায় নিয়োজিত আছে, কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য সার বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. কিসিঞ্জার চাকমা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব স্থানে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। জেলার দু-একটা উপজেলায় কার্যক্রম চলছে। গত নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজারের মতো কম্বল পেয়েছি এবং সেগুলো বিতরণ শেষর দিকে। আরও কম্বলের চাহিদা চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এইচআর