বরগুনায় ঘর তুলতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২৫

বরগুনা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি: আমার সংবাদ

বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ১২ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার ঘটখালী (উতশীতলা) গ্রামে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

জানা গেছে, চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী (উতশীতলা) গ্রামের তোতা হাওলাদারের সঙ্গে আমতলী সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী গ্রামে জামাল বিশ্বাসের সঙ্গে ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছে। ওই জমি তোতা হাওলাদার ও তার লোকজন ভোগদখল করছে। জামাল বিশ্বাসের দাবী ওই জমি আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে। শুক্রবার সকালে অর্ধ শতাধিক লোকজন নিয়ে জামাল বিশ্বাস ওই বিরোধীয় জমিতে ঘর তুলতে আসে। এতে তোতা হাওলাদারের লোকজন বাঁধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাব্বি গুরুতর আহত আমান হাওলাদার, ইব্রাহিম বিশ্বাস, আইরিন, জসিম হাওলাদার,শহীদুল হাওলাদার, শেফালী, আকলিমা, জামাল বিশ্বাস, পারভেজ, কালাম বিশ্বাস, ছালাম বিশ্বাস, সোহরাফ খাঁনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে এবং বাবুল হাওলাদার ও মহসিনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  অপর আহত জান্নাতি, সারমিন, রহিমা, বিউটি, রোজিনা, শামীমা, রাকিব ও রোজিনা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন,  ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্রসহ জামাল বিশ্বাস লোকজন নিয়ে জমিতে ঘর তুলতেছিল। এতে তোতার মিয়ার লোকজন বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। 

আহত জামাল বিশ্বাস বলেন, ওই জমি নিয়ে আমার সঙ্গে তোতার দীর্ঘদিন করে মামলা চলে আসছে। আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। ওই জমিতে আমি ঘর তুলতে গেলে আমাকে ও আমার লোকজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করছি।

তোতা হাওলাদার বলেন, আমার ভোগদখলীয় জমিতে জোরপুর্বক জামালা বিশ্বাস অর্ধ শতাধিক ভাটারিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে ঘর তুলতে ছিল। আমি এতে বাঁধা দেয়ায় আমার ছেলেসহ অন্তত ১৫ জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করছে।  আমি এ ঘটনার শাস্তি দাবী করছি। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাব্বি বলেন, গুরুতর আহত ১২ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এআরএস