খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধস, সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি

পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম

টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়িতে বন্যার পাশাপাশি ব্যাপক পাহাড় ধস দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি  নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড় ধস ও বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খোলা হয়েছে ১০০টি আশ্রয় কেন্দ্র। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

মঙগলবার (০২ জুলাই) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার সাপমারায় ভোররাতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ  মাটি সরিয়ে ৪ ঘণ্টার পর সড়ক যোগাযোগ সচল করে। এ দিকে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি শহরের শালবাগান, হরিনাথ পাড়া গ্যাপ, রুসুলপুর ও মেহেদীবাগ বেশ কিছু বাড়ী-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো ধরনের হতাহত না হলেও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

অপর দিকে দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির সাজেক ও লংগদুর সাথে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। খাগড়াছড়ি শহরে শালবাগানে পাহাড় ধসে কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং চলছে।

ভোর ৬ টার দিকে জেলা শহরের মুসলিম পাড়ার একাংশ, মিলনপুর,কল্যাণপুর, মেহেদিবাগ, উত্তর ও দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর ও বাঙ্গালকাটির একাংশ এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। লোকজন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, পৌর এলাকায় ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: সহিদুজ্জামান জানান, পুরো জেলায় ১০০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিআরইউ