ঢাকার সাভারে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে শহীদ পরিবারের দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় বাংলাদেশ প্রজন্ম লীগের ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সাবেক সভাপতি আল-আমিন ওরফে অন্তরকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২ অক্টোবর) রাতে সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সাভারের মধ্য গেন্ডা মোল্লা মার্কেট এলাকার শফি উদ্দিনের ছেলে।
তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল।
গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গ্রেফতার এড়াতে আল-আমিন ওরফে অন্তর নিজেকে একটি ভুঁইফোড় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সাথেও সখ্যতা গড়ে তোলেন এই অন্তর। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে নিহত পরিবারের স্বজনরা। স্বৈরাচারের দোসর এমন ভুয়া পরিচয় ধারী অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বেশ কিছু মামলা করেছেন। তারই একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিন ওরফে অন্তর। এসব মামলার আসামিদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাভার পৌরসভার গেন্ডা এলাকা থেকে বাংলাদেশ প্রজন্ম লীগের ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সাবেক সভাপতি আল-আমিন ওরফে অন্তরকে গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা বলেন, ‘আল-আমিন অন্তরের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানা এবং সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী মনজুরুল আলম রাজীব ওরফে বিচি বাবা এবং ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ওরফে ডিম সাইফুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় সাভার আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন। এমন অসংখ্য ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শহীদের স্বজনরা পরবর্তীতে মামলা করেন। এসব মামলায় আসামিদের ধরতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিআরইউ