ফেনী পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক সংস্কার না করার কারণে এ ওয়ার্ডের পাঠান বাড়ি রোড ও মনির উদ্দিন সড়কে বর্ষাজুড়ে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাঠান বাড়ি রোডের হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানটি এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে যায়। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জমে থাকা পানি সরতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়। এতে মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিকে ঘনবসতিপূর্ণ মনির উদ্দিন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। বৃষ্টি বন্ধ হলেও জলাবদ্ধতা থেকে যায় আরও ৪-৫ দিন। এতে পানি ও কাদায় অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের। এছাড়াও ড্রেন থাকলেও তা সরু ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
পানিতে ডুবে থাকা খোলা ড্রেন ও খানাখন্দ লাল কাপড় দিয়ে চিহ্নিত করে যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাগরিক সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির সময় এই ড্রেনের পানি উপচে বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এই ওয়ার্ডেই রয়েছে দেশের স্বনামধন্য আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা, হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ আরও প্রায় ১৪-১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৃষ্টির সময় যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তির সীমা থাকে না।
পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা পাঠান বাড়ি সংলগ্ন একটি সরু কালভার্ট। এক সময়ের ৮-১০ ফুট চওড়া সেই কালভার্টটি এখন আড়াই থেকে ৩ ফুটে এসে ঠেকেছে। সরু এ কালভার্ট দিয়ে ১০নং ওয়ার্ড ছাড়াও ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়। এতে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে প্রায়ই রাস্তায় পানি জমে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেন সংস্কার, সড়ক উন্নয়ন ও সরু কালভার্টটি সম্প্রসারণ করা না হলে জনভোগান্তি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন জানান, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন