আখাউড়া পৌরসভায় ১০ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার বা কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপনে কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ‘সৌন্দর্য বর্ধন’ প্রকল্পটি নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচিত প্রকল্পটি আখাউড়া পৌর শহরের নারায়ণপুর বাইপাস এলাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে ‘আইলাভ আখাউড়া’ সাইনবোর্ডের পাশাপাশি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস ও দর্শনীয় স্থানগুলোর নামসহ দিক নির্দেশনা স্থাপন করা হচ্ছে। কাজটি করছেন কেল্লা শহীদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, কোটেশনের মাধ্যমেই কাজটি দেওয়া হয়েছে।
পৌর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণত টেন্ডার বা কোটেশন আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নোটিশ বোর্ডে জানানো হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে কোনো ধরনের প্রকাশ্য ডাক নেই। কাজ শুরু হওয়ার পর জানতে পারেন পৌরসভার নিয়মিত ঠিকাদাররাও।
নিয়মিত ঠিকাদার মো. আলী ভুঁইয়া বলেন, ৪০ বছর ধরে ঠিকাদারি করছি। এই প্রথম দেখছি টেন্ডার ছাড়া এমনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোনো নোটিশ বা ডাক নেই।
ঠিকাদার রাসেল মিয়া বলেন, কিভাবে কাজটি বিতর্কিত ঠিকাদারকে দেওয়া হলো, তা জানি না। পৌর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি পিলারের ফাউন্ডেশন তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের অন্যান্য অংশের কাজও চলছে পুরোদমে।
যার নামে কাজ হচ্ছে, সেই ঠিকাদার ইয়াছিন মোল্লা নিজেই বলেন, আমাকে কোনো অফিসিয়াল কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ আমার কাছ থেকে রড, সিমেন্ট, বালু নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. তানভীর হোসেন বলেন, বর্ষা আসছে বলে দ্রুত ‘আরপিও’র মাধ্যমে কাজটি শুরু করেছি। আরপিওতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হয় না। কেল্লা শহীদ এন্টারপ্রাইজকে কোটেশনের মাধ্যমেই কাজটি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক জি.এম. রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি আখাউড়ায় নতুন এসেছি। বিতর্কিত কোনো ঠিকাদার এ ধরনের কাজ করতে পারবে না। অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদার পরিবর্তন করা হবে।’
বিআরইউ