শরীয়তপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই পদ্মায়, জেলেদের দুর্ভোগ

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম

ভরা মৌসুমে থাকা সত্ত্বেও শরীয়তপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। এ কারণে হতাশা ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগে পড়েছেন নদী পাড়ের জেলেরা।

জেলার মৎস্য আড়তগুলোতেও ইলিশ শূন্য। অনেক আড়ৎদার জেলেদের অগ্রিম দাদনের টাকা ফেরত নেওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরের নাছির হাওলাদার জানান, গত ১১ দিন ধরে ১০–১২ জনের জেলে বহর নিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। নদীতে মাছ না পাওয়ায় খরচের টাকাও উঠছে না। 

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর থেকে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদী ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ভরা মৌসুমেও জেলেরা শূন্য হাতে নদী থেকে ফিরে আসছেন।

শরীয়তপুরে প্রায় ২১ হাজার জেলে পরিবার পদ্মার ইলিশের উপর নির্ভরশীল। অধিকাংশ জেলেরা ঋণগ্রস্ত। জালে মাছ না উঠায় তাদের পরিবার-পরিজন অর্থাভাবে দুর্ভোগে পড়ছে। অনেকেই এই পেশা ছেড়ে নতুন পেশার সন্ধানে নেমেছেন।

নদীপাড়ের আড়তগুলিতেও ইলিশ নেই। নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, ভেদরগঞ্জ উপজেলার গৌরাঙ্গ বাজার, সখিপুরের বালার বাজার ও গোসাইরহাটের কোদালপুর আড়তে পাইকারদের ভীরও নেই। 

আড়ৎদাররা জানান, এবছর নদীতে ইলিশ নেই। জেলেদের দেওয়া অগ্রিম দাদন ৫০–৬০ লাখ টাকা হলেও মাছ না পাওয়ায় তা উত্তোলন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কিছু জেলে ১–২টি ইলিশ ধরলেও তা চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশের দাম কেজিতে ২–২.৫ হাজার টাকা পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

ইএইচ