বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার অজুহাতে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, সবজি ও মাছের বাজারে অস্থিরতা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৫, ০২:৩৫ পিএম

যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ বেগুন, টমেটো, বরবটি, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে হু হু করে বেড়েছে।

 ব্যবসায়ীরা অতিবৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখালেও ক্রেতাদের অভিযোগ— অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের জিম্মি করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া ও আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০–৮০ টাকায়। বেগুন ১২০–১৫০, ওল ৮০–১০০, করলা ৮০–১০০, বরবটি ৬০–৮০, লাউ প্রতিটি ৭০–১০০, পটল ৫০–৬০, ঝিঙে ৮০–১০০, মিষ্টি কুমড়া ৫০–৬০, রসুন ১০০–১২০ এবং আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ২৪০–২৬০ টাকায় উঠেছে।

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে মুরগি, ডিম ও মাছের দামও।

গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৩০–১৪০ টাকা, বর্তমানে তা ১৮০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে সোনালি ও দেশি মুরগির দাম। ডিমের প্রকারভেদে ডজনপ্রতি বেড়েছে ১০–১৮ টাকা।

অন্যদিকে মাছের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় মাছ পাঙাশ এখন কেজিপ্রতি ২২০–২৪০ টাকা। এক কেজি আকারের রুই ৩৫০–৩৭০ টাকা, আর বাটা, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়াসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

চলিশিয়া ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের ক্রেতা ইমারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে মাছ খাওয়ার স্বপ্নই বাদ দিতে হবে। কার্যকর মনিটরিং না থাকায় আড়ত থেকে খুচরা পর্যন্ত দামের পার্থক্য কয়েক গুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের।”

অভিযোগ অস্বীকার করে নওয়াপাড়া বাজারের আড়তদার কামরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, “অধিকাংশ মাছের ঘের বন্যায় তলিয়ে গেছে। এখন যেসব সবজি বাজারে আসছে, সেগুলো বাইরের জেলা থেকে আসছে। পরিবহণ ব্যয়সহ নানা কারণে দামে চাপ পড়ছে।”

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, “সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে মৌসুমি সবজির উৎপাদন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে স্থানীয়ভাবে সবজির সরবরাহ বাড়বে, তখন বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা যায়।”

ইএইচ