হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর কমিটি, পাশাপাশি ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ পড়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এতে জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার বিএনপির ঘোষিত কমিটি নিয়ে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন ত্যাগী নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ঝাড়ু ও জুতা মিছিল করে ঘোষিত পকেট কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এক গোষ্ঠীর পছন্দমতো লোকজনকে বিভিন্ন পদ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিগত সময়ে বিএনপির প্রতি বিরূপ অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও পদ-প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
রোববার হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আব্বাস উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী ডা. আহমদুল রহমান আবদাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মনজুর উদ্দিন আহমেদ শাহীনসহ উপস্থিত কমিশনারদের কাছে অভিযোগ জানানো হয় যে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় গঠিত কমিটি ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে এক পক্ষের এজেন্ডা অনুযায়ী করা হয়েছে। এতে মোট ১,৩১৩ জন ভোটার রয়েছেন, যারা এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ।
কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী জিকে গউছ জানান, “আমি উপজেলা ও পৌরসভা কমিটি গঠনে কোন হস্তক্ষেপ করিনি, যারা দায়িত্বে আছেন, তারাই কমিটি করেছে। আমার কোনো হাত নেই।”
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমেদ চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ সময় দলের জন্য কাজ করা প্রকৃত নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে পকেটভিত্তিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি দলের জন্য শেষমেষ বিপর্যয় ডেকে আনবে। অবিলম্বে এসব কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। অন্যথায় জেলার বিএনপি পরিবারে বিভাজন এবং অসন্তোষ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।”
নেতাকর্মীদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটির মাধ্যমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে প্রকৃত নেতাকর্মীদের প্রতি অন্যায় হবে এবং দলের ভিতরে বিভাজন বৃদ্ধি পাবে।
ইএইচ