১২ বছর ধরে শিকলবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলো আপন ভাই-বোন৷ দরিদ্র পিতার পক্ষে ছিল না চিকিৎসা করানোর মতো অবস্থা। মানসিক ভারসাম্যহীন ভাই বোনকে নিয়ে পরিবার ছিল বিপাকে৷ এমনি দুর্বিষহ অবস্থায় নিদারুণ কষ্টে নিরুপায় দিন কাটট ছিলো তারা৷
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গণেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর ফজলু মিয়ার সন্তান আছমা খাতুনন (২৮) ও জাহাঙ্গীর (২৫)।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের শিকল খুলে এম্বুল্যান্সে তুলে দেন। এছাড়াও সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে তাদের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র দিনমজুর পিতা ফজলু মিয়ার চার মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে দুজন মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনবেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম অবস্থা-এর মধ্যে তাদের নিয়ে বাড়তি চিন্তার শেষ ছিল না তাদের। ছেড়ে দিলেই অসংলগ্ন নানা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলার চেষ্টা করতো দুজন। ফলে নিরুপায় হয়ে শিকলবন্দি করে আটকিয়ে রাখা হতো তাদের। প্রশাসনের এই সহায়তায় তাদের চিন্তা কিছুটা হলেও কমেছে বলে জানায় তারা। প্রশাসনের এমন আন্তরিকতায় গ্রামবাসীও সন্তুষ্ট।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনা জানার পর সাথে সাথে গিয়ে তাদের মানবিক বিপর্যয় দেখে তাৎক্ষণিক সহায়তার চিন্তা করি। পরে তাদের ঢাকায় মানসিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। এবং নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেই।
তিনি আরো বলেন, সরকার ও প্রশাসন জনগণের জন্য সবসময়ই আন্তরিক।
জেএইচআর