পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একাই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার।
৩৫তম বিসিএস প্রশাসনের এ কর্মকর্তা ইউএনও কার্যালয়ের পাশাপাশি ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে সামলাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ১ এপ্রিল ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মোছা. নাজমুন নাহার। যোগদানের পর থেকে তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, উপজেলার অনেক মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র অপসারিত হওয়ার পর ইউএনও নাজমুন নাহার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের দায়িত্ব একাই তার কাঁধে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনও অফিস ও উপজেলা পরিষদ একই ভবনে থাকায় তিনি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন পৌরসভা ও উপজেলা ভূমি অফিসে বসেন, যাতে জনগণ সহজে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পান। দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন।
উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অফিসিয়াল কাজের পাশাপাশি ইউএনও নাজমুন নাহার নিম্নলিখিত সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন— ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক অসহায় পরিবারের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করা, শিশু ও তরুণদের খেলার মাঠ রক্ষায় দ্রুত হস্তক্ষেপে লিজ প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করা, ভেঙে পড়া বাঁশের সাঁকো সংস্কার করে স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের যাতায়াত সহজলভ্য করা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদের নিয়ে তারুণ্য ২৪ গ্রন্থাগার উদ্বোধন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে গামবুট বিতরণ, পুকুর থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নৃত্য প্রশিক্ষণ চালু করে সংস্কৃতি চর্চার বিকাশ।
এ বিষয়ে ইউএনও মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, “নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দপ্তরের দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। প্রতিটি দপ্তরের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছি। যদিও এটি আমার জন্য অনেক বড় চাপ, তবুও সরকারি বিধান মেনে কাজ করতে হচ্ছে। যতদিন এখানে আছি, জনগণের কল্যাণে কাজ করব। জনগণ আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে, এজন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দায়িত্বের পরিধি বড় বা ছোট নয়, বরং কাজটি আন্তরিকভাবে করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করলে দায়িত্ব কিছুটা কমে যাবে।”
ইএইচ