নরসিংদীর অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মনে হয় যেন নরসিংদী “ক্লিনিকের শহর”, যেখানে ভবনভিত্তিক হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ এবং দক্ষ জনবল ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে নানা সমস্যা রয়েছে। নিয়ম-নীতি না মেনে যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একই ভবনে ২–৩টি প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। নিয়মিতভাবে ভুল চিকিৎসা ও রোগীর মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ, গত ২৮ আগস্ট লাইফ কেয়ার নামের এক প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল অপারেশনের কারণে রাহা মনি নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
রোগী ও স্বজনরা জানান, “অনেকটা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিতে হয়। ডাক্তাররাও টাকার প্রলোভনে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রাইভেটে বেশি সময় দেন। পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অযুহাতে চলতে থাকে।”
নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত আছে। কোথাও সেবার ত্রুটি ঘটলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সরকারি নীতিমালা মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইএইচ