দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, "পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে যে কেউ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুক, জনগণ তাদের রুখে দেবে। জুলাই বিপ্লব মানুষের মগজে যে চিন্তাচেতনার বীজ বপন করেছে, তার ভিত্তি অত্যন্ত দৃঢ়। ফ্যাসিবাদের জুলুম-নির্যাতনে মানুষ যা শিখেছে, তারা কখনো এ দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেবে না।"
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত “জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থান, সাংবাদিকদের ভূমিকা ও হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন” শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রেস ক্লাবের সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব খুরশীদ জামিল চৌধুরী, কালের কণ্ঠ এর ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, এ্যাবের সভাপতি প্রকৌশলী জানে আলম সেলিম, বাংলাদেশ টাইমস এর বিভাগীয় সম্পাদক সালেহ নোমান, সাংবাদিক মঈমুদ্দিন কাদেরী সওগাত, মাহবুবুল মওলা রিপন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজা প্রমুখ।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, অধিকার হরণ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। এই ফ্যাসিবাদের প্রধান শক্তি ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারত। জুলাই বিপ্লবে জনগণ দুই শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছে—একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদী সরকার, অন্যদিকে ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তি। এই লড়াইয়ে গণতন্ত্রপ্রিয় নিপীড়িত জনগণ জয়ী হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “১/১১ সময়ে মানুষের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। তখন গণতন্ত্রের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে কালো মাস্ক পরে মানববন্ধন করি। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের গণমাধ্যমে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব দেখা দিয়েছে এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে এর চূড়ান্ত রূপ স্পষ্ট হয়েছে।”
ইএইচ