অসহায়ত্ব, কান্না আর শূন্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে শাপলাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ার মোক্তার সওদাগরের দুই ছেলে আলা উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের পরিবার।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুন মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত করে দেয়।
মাত্র কয়েক মিনিটের আগুনে দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, গৃহস্থালি সামগ্রী, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবকিছুই মাটির সাথে মিশে গেছে। আগুন নেভাতে স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও কাঠ-টিনের তৈরি ঘরগুলো অল্প সময়েই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেঁচে যাওয়া পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ, শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ইউপি সদস্য মাওলানা শফিউল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ত্রাণ বিতরণ শেষে ইউএনও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুঃখ-কষ্ট আমরা ভাগাভাগি করে নেব। তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা ছুটে আসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে। তারা নিজেরা যেভাবে পেরেছেন সহায়তা করেছেন। অনেকেই বলছেন, এই পরিবারগুলোর এখন পুনর্বাসন দরকার। সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসী মহেশখালীবাসীদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই পরিবার এখন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রশাসনের প্রাথমিক সহায়তা সাময়িক সান্ত্বনা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ ছাড়া নতুন করে বাঁচার পথ নেই। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বপ্ন পুনর্গঠনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ ও দানশীলদের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
জেএইচআর