কটিয়াদীতে চীনা মুরগি বাণিজ্যিক খামার, বছরে ১২ লাখ টাকা আয় 

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ০১:১৭ পিএম

বাণিজ্যিকভাবে চীনা মুরগি (তিতির) পালন করে সাফল্য অর্জন করেছেন খামারি মাসুদল আলম। এতে ঘুরেছে তার ভাগ্যের চাকা। বাণিজ্যিকভাবে এ পাখি পালনের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামে রয়েছে এই খামার৷ খামারি মাসুদুলের সফলতা দেখে অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন চীনা মুরগী পালনের।

তিতির খুব শান্ত এছাড়াও  খাদ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভ বেশি। মাংস ও ডিম খুবই সুস্বাদু। মৃতু্যঝুঁকি কম হওয়ায় তিতির পালনে আমিষের অভাব পূরণের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হতে পারে । এটি সহজেই গ্রামীণ পরিবেশেই হাঁস মুরগির সঙ্গে লালনপালন করা যাচ্ছে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দু'বছর আগে ৯০০শ' তিতিরের বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন খামার। বছর ঘুরতেই বাড়তে থাকে সংখ্যা৷ এখন খামারে রয়েছে ছোট তিতির আড়াই হাজার এছাড়াও বড় ৫০০ টির মতো রয়েছে। প্রতি পিস বাচ্চা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। বছরে মা তিতির ১৫০ টির কমবেশি ডিম দিয়ে থাকে৷ বড় গোলের ওজন হয় ৩-৫ কেজি। ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়৷ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে সরবরাহ হয় এসব পাখি। ডিম ফুটাতে কৃত্রিমভাবে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৭-২৮ দিন সময় লাগে। প্রজনন মৌসুম মার্চ-অক্টোবর। দেশের আবহাওয়ায় সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ডিম পাড়ে। প্রতিটি ডিমের ওজন ৪০-৪৫ গ্রাম। দানাদার শস্য, কচি ঘাস, ভুসি, কুঁড়া, পোকামাকড়, সবজি এদের প্রধান খাদ্য। মাসুদুল আলমের সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই তিতির পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।

খামার দেখতে আসা সবুজ, মোবারক, আবুল হাশেম সহ আরো কয়েকজন বলেন, চীনা মুরগি খামার দেখে তাদের আগ্রহ বেড়েছে তারাও এই তিতির পালনে আগ্রহী। এই তিতিরের বাজার প্রসারে সরকার এগিয়ে আসলে অনেকেই এটা দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে। 

খামারি মাসুদুল আলম বলেন, প্রতিমাসে খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করা যায়৷ বছরে ১০-১২ লাখ টাকা উপার্জন হচ্ছে। এছাড়াও পোলট্রি মুরগির চেয়ে এটির মৃত্যুর হার কম। ওষধের তেমন প্রয়োজন হয়না। এছাড়াও যে কোনো পরিবেশে সহজেই এটি পালন সম্ভব। তিতিরের তেমন কোনো রোগবালাই নেই। শুধু বাচ্চা ফোটার প্রথম দুই সপ্তাহ ভালোভাবে পরিচর্যা করলে পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর হার নেই বললেই চলে।

কটিয়াদী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ উসমান গণী বলেন, নতুন যারাই এই খামার করতে আগ্রহী হবে, আমরা তাদের যাবতীয় পরামর্শ দেবো৷ এ ছাড়াও যারাই খামার করেছেন তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে৷ এদের রোগবালাই কম হয়, ডিম বেশি পাড়ে, ওজন বেশি হয়, উৎপাদন খরচ কম ও দেখতে সুন্দর। এ জন্য তিতির পালন লাভজনক।

জেএইচআর