চসিকের অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটা যাবে না: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৮:২৬ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অনুমতি ছাড়া ওয়াসা বা অন্য কোনো সংস্থা রাস্তা কাটতে পারবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, অনুমতি ছাড়া রাস্তা কেটে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বিভাগীয় সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এ হুঁশিয়ারি দেন।

মেয়র বলেন,“ওয়াসা সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা কাটছে। এতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে। কোন সড়ক টেন্ডারের আওতায় আছে বা নতুন নির্মাণ হবে, তার তালিকা আমরা দেবো। সেই সড়কগুলোতে কোনোভাবেই কাটাকাটি করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, সড়কে খনন করলে ওয়াসাকে প্রতিটি রাস্তা হস্তান্তরের আগে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে—কোথায় কত ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্কারে কত খরচ লাগবে। অন্যথায় দায়ভার একতরফাভাবে নেবে না চসিক।

মেয়র বলেন, ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে নগরে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে ওয়াসার দাবি অনুযায়ী, তারা ৯৩ কিলোমিটার সড়ক কেটেছে এবং এর মধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এজন্য ৮২ কোটি টাকা সংস্কার খরচও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ওই টাকার দুই থেকে তিন গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে। অনেক স্থানে নতুন রাস্তা নির্মাণ শেষ হতেই ওয়াসা আবার খনন কাজ শুরু করেছে, এতে জনগণের কষ্ট ও উন্নয়ন নষ্ট হচ্ছে।

প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে মেয়র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ভাঙা রাস্তা ও গর্তগুলো দ্রুত প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সংস্কার করতে হবে। চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করা এবং প্রতিটি সড়কের সঙ্গে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মেয়র জানান, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এ কারণে চসিকের পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মেডিকেল অফিসার ও প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের মাধ্যমে সচেতনতা ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি সভায় জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় নতুন একটি ওষুধ ‘বিটিআই’ অনুমোদন পেলে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হবে।

মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামে যারা ব্যবসা করবেন, তাদের অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। নগরে ৪–৫ লাখ ট্রেড লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার।”

তিনি আরও বলেন, দৃশ্যমান প্রতিটি সাইনবোর্ডের কর পরিশোধ করতে হবে। বছরের পর বছর বড় ডিফল্টাররা হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে ‘রাজস্ব সপ্তাহ’ চালু করা হবে।

মেয়র জানান, শীঘ্রই “আমার চট্টগ্রাম” নামে একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ময়লার অবস্থান বা রাস্তার সমস্যার ছবি তুলে সরাসরি চসিককে জানাতে পারবেন। এতে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও রাস্তা সংস্কারের কাজে গতি আসবে।

সভায় চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ চসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচ