ঝিনাইদহের নবগঙ্গার দেবদারু চত্বরে প্রতিদিন সকাল হলেই একঝাঁক বয়স্ক মানুষের মিলন হয়। চলতে থাকে ঘন্টাব্যাপি শারীরিক ব্যায়াম, উদ্দেশ্য একটাই—যতদিন বেঁচে আছি, শরীর সুস্থ রাখা। এই ব্যায়ামে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বয়সে ৪৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
ঝিনাইদহের বয়স্ক মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা এই ফিটনেস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, যিনি সোতোকান কারাতের ব্ল্যাকবেল্টধারী প্রশিক্ষক। প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে জুলাই মাসের প্রথমে এই একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। মাত্র তিন মাসে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে।
প্রতিদিন সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৭টার কিছুটা পরে পর্যন্ত চলতে থাকে ব্যায়াম। অংশগ্রহণকারীরা দলমত, ধর্মবর্ণ বা সামাজিক পদবী নির্বিশেষে প্রশিক্ষকের নির্দেশনায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের ব্যায়াম করে। যারা একবার এই ব্যায়ামে অভ্যস্ত হয়েছেন, তারা প্রতিদিনের ব্যায়ামকে নেশার মতো অনুভব করেন।
সদস্যদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
একাডেমির প্রশিক্ষক কাজী আলী আহম্মেদ লিকু বলেন, “আমি এই প্রতিষ্ঠানটি বয়স্ক মানুষদের জন্য শুরু করেছি। শহরে বয়স্কদের জন্য ব্যায়ামের কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান ছিল না, অথচ তাদের সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের লক্ষ্য, সদস্যদের স্বাস্থ্য সচেতন রাখা।”
ফিটনেস একাডেমির নিয়মিত সদস্য নাজমুস সাকিব বলেন, “এই ব্যায়ামে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। শরীর ফিট রাখতে এর বিকল্প নেই।” অন্য সদস্য কামরুজ্জামান লিটন বলেন, “ব্যায়ামে ফ্যাটি লিভার, মাংসপেশি ও হাঁটুর স্বাস্থ্য অনেক উন্নতি হয়েছে।”
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সদস্য আশরাফুল ইসলাম পিন্টু বলেন, “এই ব্যায়াম আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝিনাইদহ শহরে এই প্রতিষ্ঠান চলমান রাখতে আমাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রশিক্ষককে সম্মানের সঙ্গে রাখা আমাদের দায়িত্ব।”
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, “শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। নবগঙ্গা ফিটনেস একাডেমি আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।”
ইএইচ