ঝিনাইদহের পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
জেলার মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের প্রসূতিদের দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা বন্ধ থাকায় তারা বাধ্য হয়ে দূরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে, একই সঙ্গে মা ও নবজাতকরা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। এছাড়াও এই পরিস্থিতি বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসাকে বাড়াচ্ছে।
জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় এক বছর ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। অন্যান্য চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতিও একই। এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ এবং গাইনী চিকিৎসকের অভাব এই সংকটের মূল কারণ।
অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্যালাইন স্ট্যান্ডসহ সকল সরঞ্জাম ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
প্রসূতি শিরিন আক্তার বলেন, “সরকারি হাসপাতালে গেলে খরচ কম হতো। কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে দূরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। তাতেও চিকিৎসক সব সময় থাকেন না।”
কালীগঞ্জের কৃষক রহমত আলী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে আমরা কোথায় যাব? ডাক্তার না থাকলে গরিব মানুষ আরও বিপদে পড়বে।”
হরিণাকুন্ডুর গৃহবধূ ফারজানা খাতুন জানান, “ক্লিনিকে গেলে অন্তত ২৫–৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। গরিব মানুষ কীভাবে এই টাকা জোগাড় করবে? তবুও বাধ্য হয়ে ক্লিনিকেই যেতে হচ্ছে।”
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “সব উপজেলায় অপারেশনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকট বড় সমস্যা। দ্রুত পদায়ন করলে আবারও সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা সম্ভব হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চিকিৎসক থাকলে এই পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রতি মাসে অন্তত ২০০ প্রসূতি সরকারি সেবা পেতেন। দীর্ঘদিন ধরে সিজার বন্ধ থাকায় গরিব পরিবারগুলো চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ইএইচ