কারো হাতে নতুন টিফিন বক্স, আবার কারও হাতে মামপট। মুখে হাসি, চোখে আনন্দের ঝিলিক। এসব উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শুরু করার প্রত্যয় প্রকাশ করে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের ১৮ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক ছাত্রনেতা বুলবুল আহম্মেদের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে টিফিন বক্স ও মামপট বিতরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মস্তুয়ারা বেগম জানান, “এই সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তাদের আনন্দে আমরাও আনন্দিত।”
জানা গেছে, বাজিতখিলা ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম প্রাথমিক শিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। কিছু পরিবার সন্তানদের শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না। পিছিয়ে পড়া এসব শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন টিফিন বক্স পেয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদেরকে এই প্রথম কেউ টিফিন বক্স উপহার দিলেন। খুব ভালো লাগছে।” আরেকজন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা মামপটে পানি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসব এবং ভালোভাবে পড়ালেখা করব।”
সাবেক ছাত্রনেতা বুলবুল আহম্মেদ বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের স্কুলজীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। বাজিতখিলা ইউনিয়নের শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য আমি সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। ১৮ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুন্দর খেলার মাঠ থাকলেও খেলাধূলার সরঞ্জাম তেমন নেই। ভবিষ্যতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে শিশুরা খেলাধূলায় উদ্ভুদ্ধ হবে।”
উপলক্ষ্যে ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. সামাদ, শেরপুর সদর উপজেলা তাতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম, বাজিতখিলা ইউনিয়ন তাতীদলের আহ্বায়ক নুকুনুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, বাজিতখিলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের নেতা আলেক মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচ