আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সাজেকের ৪ শতাধিক পর্যটক গন্তব্যে ফিরলো

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:২৭ পিএম

সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকবাহী গাড়ি দীঘিনালা উপজেলায় জোড়াব্রীজ সীমানা থেকে রিসিভ করে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পৌঁছে দিয়েছে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনী।

খাগড়াছড়িতে জুম্মু ছাত্র–জনতার ডাকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও জারি থাকা ১৪৪ ধারার মধ্যে জেলা সদর ও গুইমারায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে দীঘিনালায় সেনাবাহিনী ও আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী সেনা চেকপোস্ট স্থাপনের কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।

সোমবার দুপুরে সাজেকে আটকে থাকা অর্ধশতাধিক টুরিস্টবাহী গাড়িসহ ৪ শতাধিক পর্যটক বাঘাইহাট জোনের সীমানা থেকে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনী রিসিভ করে খাগড়াছড়ি সদরে পৌঁছে দিয়েছে। দীঘিনালার আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ফেরার পথে মো. হারুন অর রশিদ বলেন, অবরোধের কারণে আমরা সাজেকে আটকে গিয়েছিলাম। সাজেকের স্থানীয়রা অনেক সহায়তা করছে আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদেরকে নিরাপত্তার টহল দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। পাহাড়ে সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা বলে শেষ করা যাবে না। সত্যি সেনাবাহিনী অনেক প্রশংসার দাবিদার।

ঢাকার হলিক্রিসেন্ট কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী বুসরা বলেন, আমি প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম অবরোধের কথা শুনে। পরে স্থানীয়রা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে এবং সেনাবাহিনী স্কট দিয়ে নিরাপত্তাসহকারে আমাদেরকে সাজেক থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর অবদান আমি কখনও ভুলতে পারব না।

অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় সহিংসতার কারণে গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার ১৪৪ ধারা জারি করেন। 

তিনি জানান, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আধাবেলা এবং শনিবার সকাল–সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করে জুম্মু ছাত্র–জনতা। এ সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার দুপুর ২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা বহাল রাখা হয়। যদিও ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে, তবুও জুম্মু ছাত্র–জনতা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রভাব জেলার প্রতিটি উপজেলায় পড়ছে। তবে সেনাবাহিনীর কঠোর তৎপরতা এবং দীঘিনালার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী সেনা চেকপোস্ট স্থাপনের কারণে ওই এলাকায় আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইএইচ