নতুন দোকান, নতুন স্বপ্ন: কটিয়াদীর খুরশিদ মাঝির জীবনে আশার আলো

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৫, ১২:১৯ পিএম

৩০ বছর ধইরা নৌকা বাই৷ অভাবের যন্ত্রণা আমার মুখের হাসি কাইরা লইয়া গেছিলোগা৷ এহন আমি নতুন দোহান পাইছি সরকার থাইক্যা৷ এইডা দেইখ্যা, ৩০ বছর পরে মনডার মধ্যে আনন্দে ভইরা গেছেগা। এই দোহান দিয়া কয়ডা পয়সা পাইলে আমার কষ্ট কিছুডা কমবো। হাসতে হাসতে কথাগুলো বলছিলেন প্রতিবন্ধী খুরশিদ মাঝি (৬৬)। 

অপ্রতিরোধ্য প্রতিবন্ধী জীবন যুদ্ধা খুরশিদ মাঝি। দীর্ঘ হতাশার পর নতুন একটি দোকান পেয়ে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন চোখে উঁকি দিচ্ছে।  

মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া মৃধা বাড়ি খেয়াঘাটে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাঝির জন্য নদীর ঘাটে যায়। সেখানেই নতুন একটি দোকান সহ মালামাল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঝিকে তুলে দেন।

স্থানীয়রা জানান, খুরশিদ মাঝির জীবন যুদ্ধ একটি অনুপ্রেরণা। অভাব অনটনে দমে না গিয়ে জীবিকার তাগিদে তিনি বেঁচে থাকার জন্য একটি নৌকা নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন। এমনকি চলাফেরায় অক্ষম হবার পরেও তিনি কারো কাছে হাত না পেতে অদম্য মনোবল নিয়েও লড়ে যাচ্ছেন নিজ উপার্জনে৷ এটা আত্মমর্যাদার অনন্য উদাহরণ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ঘাটে মানুষের জটলা নতুন দোকান ঘিরে। দোকানে ওঠানো হয়েছে না না রকমের মালামাল। হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলছেন মাঝি। নতুন দোকান পেয়ে নতুন কিছুর স্বপ্ন চোখেমুখে স্পষ্ট৷ স্বামী-স্ত্রী মিলে দোকান পরিচালনা করবেন তারা। নৌকায় খেয়া পারাপার আর দোকান নিয়ে সংসার পরিচালনায় গতি আসবে এমনটাই তাদের আশা।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অনেকেই আমরা সহায়তা দিয়ে থাকি। তবে আজকের সহযোগিতাটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মাঝির চোখমুখে হাসি দেখে আমাদের সবার ভালো লাগছে। আমাদের সাথে সাথে এলাকাবাসীও উচ্ছ্বসিত৷ মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

জেএইচআর