জলাবদ্ধ ভবদহে পূজা উৎসবের আমেজ নেই

মিজানুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর) প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম

টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে যশোরের দুঃখ খ্যাত ভবদহবাসী। চারদিকে থৈ থৈ পানি, হাঁটা চলার উপায় নেই। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেই শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। 

আনন্দ উৎসবের রঙিন ছোঁয়া নেই, ছড়িয়ে আছে দুঃখ আর দূর্দশা।

তারপরও ধর্মীয় রীতি রক্ষায় থেমে নেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। থৈ থৈ পানির মধ্যেই মন্ডপ প্রতিষ্ঠা করে চলছে পূজা। 

কিন্তু মনিরামপুরের ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাঠি, কুলটিয়া, নেহালপুর ও মনোহরপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগীদের মনে নেই উৎসবের কোনো আমেজ। থৈ থৈ পানির চাপে হারিয়ে গেছে দুর্গোৎসবের আনন্দ। দেবী বরণের খুশি বদলে বুকভরা কষ্ট আর অশ্রুতে ভিজছে ভবদহবাসীর জীবন। 

ভবদহ এলাকার বেশ কিছু মন্দির প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক মন্দিরে পূজা অর্চনার জন্য ন্যূনতম পরিবেশও নেই। যে স্থানগুলোতে প্রতি বছর মেলা বসে, সেগুলোতেও এখন কোমর সমান পানি।

উপজেলার হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের পাঁচকাঠি গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণু পাড়ে বলেন, “গত কয়েক মাস সংসারে আয় রোজগার বন্ধ। মাছ ধরে কোনমতে জীবন চালাচ্ছি। পূজায় এখন আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য নয়। ছেলেমেয়েদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছিনা। পানীয় নামছে না। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জানান, ভবদহ একচেটিয়া হিন্দু অধ্যষিত এলাকা। বড় করে দুর্গাপূজা করতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মনিরামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক তরুণ কুমারশীল জানান, ভবদহ পারের বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ নেই। 

সম্প্রতি দুভোগ লাঘবে সেনাবাহিনী শীঘ্রই ভবদহ অঞ্চলের পাঁচটি নদী পুনঃখনন করবে বলে কাজ চলছে। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে ভবদহ অঞ্চলের মানুষের আশা ও ভরসা রয়েছে।

ইএইচ