বান্দরবানে ত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)'র ৮টি ভবন তিন বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসনিক নানা জটিলতায় এখনও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের রেইছা এলাকায় প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ম্যাটসের ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়েছে আটটি ভবন। এসব ভবনের মধ্যে রয়েছে একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং ছাত্রীনিবাস। তবে কোনো ভবনেই আসবাব দেখা যায়নি।
এদিকে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীন সড়ক ও এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে জঙ্গলে; বিদ্যুতের বাতি বসানোর জায়গায় বেঁধেছে পাখির বাসা। এসব ভবনে এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারনায় প্রাণবন্ত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে নির্জন ক্যাম্পাসের সব কটি ভবনই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসটিতে তৈরি হয়েছে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)'র অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩০ টাকা। যা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এসব ভবন নির্মাণ করেছে ঠিকারী দুটি প্রতিষ্ঠান— এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং ও এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। কিন্তু নির্মাণের তিন বছরেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
জানা গেছে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) এ চার বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ করানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে একজন ছাত্র নিজেকে চিকিৎসা সহকারি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, বান্দরবানের মত পাহাড়ি জনপদে এই ম্যাটসটি চালু হলে দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সেবা দেওয়ায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। এটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাচ্ছি।
রেইছা থলি পাড়ার এইচএসসি পরিক্ষার্থী মংউসাই মারমা জানান, তার খুব ইচ্ছা আছে নার্সিং পড়ার। যদি নার্সিংয়ে চান্স না পাই তাহলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট বিষয়ে পড়াশোনা করব। যদি কবিরাজপুরে ম্যাটস চালু হয় তাহলে ওখানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করব।
৩ নম্বর বান্দরবান সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রেইছা পাড়ার বাসিন্দা অংসা হ্লা মার্মা বলেন, ম্যাটসটি চালু হলে আমাদের এই এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে এখানে পড়াশোনা করার সুযোগ পেতো এবং দেশের স্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালুর দাবি জানাই।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মোজাফ্ফর জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে অধিদপ্তরের ১৮ মাসের চুক্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়ে গেলেও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে অবকাঠামো বুঝে নেওয়া হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান অফিসের সহকারী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম দাশ বলেন, ম্যাটসের নির্মিত অবকাঠামো বুঝে নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সম্প্রতি ম্যাটসে একজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো অবকাঠামো বুঝে নেয়নি।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ডা. মো. সাজ্জাত হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে বান্দরবান ম্যাটসে অধ্যক্ষ (সংযুক্তি) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ম্যাটসের কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে এখনো। চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ম্যাটসের অবকাঠামো পরিদর্শন করে গেছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগে অবকাঠামো হস্তান্তর-গ্রহণ, ভবনগুলোতে আসবাবপত্র সরবরাহ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ প্রশাসনিক নানা জটিলতা রয়েছে এখনো। তাই ঠিক কবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ইএইচ