মা ইলিশ রক্ষায় বরিশালে নৌ-র‌্যালী

বরিশাল ব্যুরো  প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০৪:৪৮ পিএম

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। যা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত নদী-সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

তাই সরকারী নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কীর্তণখোলা নদীতে একটি নৌ-র‌্যালী বের করা হয়। এসময় র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন র‌্যাব, পুলিশ এবং কোস্টগার্ড সদস্যরা।

নৌ র‌্যালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

এসময় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, আজ থেকে ২৫ অক্টোর পর্যন্ত জেলেরা যাতে নদীতে জাল না ফেলে এজন্য এই উদ্বুদ্ধকরণ নৌ-র‌্যালী। এই ২২ দিনে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মওজুদ এবং বাজারজাতকরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচ্য। নষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার করলে আইন অমান্যকারীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

এবং তারা চাচ্ছেন সবাই এই মেনে চলে ইলিশের বংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। যাতে করে জেলে থেকে সবাই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলেদের সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

বরিশালের মেঘনা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌ পুলিশ ও হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উদ্যোগে ড্রোন উড়িয়ে নজর রাখা হবে।

মা ইলিশ নিধনকারীদের ধরতে মেঘনা নদীতে নজরদারির জন্য অন্তত চারটি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ড্রোন যেখানে ইলিশ ধরার তথ্য দেবে, সেখানে দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

এছাড়া অভিযান পরিচালনার জন্য জেলায় ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল জেলায় মোট জেলের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৬২৩ জন।

এর মধ্যে কার্ডধারী জেলে ৬৬ হাজার ৫২৪ জন। কার্ডধারী জেলেদের জন্য ১ হাজার ৬৬৩ দশমিক ১ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবে।  

অন্যদিকে জেলেদের দাবি নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রণোদনার পাশাপাশি তালিকা হালনাগাদ করার। তবে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি ২২ দিন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করবে মৎস্য বিভাগ।

জেএইচআর