নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরকলমী এলাকা থেকে এরশাদ আলী (৩৮) নামে এক ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে জনতা পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শুক্রবার রাতে এরশাদ ডাকাত পালিয়ে আছে এমন খবরে জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এরশাদ ডাকাতকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এরশাদ গত শাসনামলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ডাকাতি, চুরি, মাদক ব্যবসা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াতো। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে চরএলাহী বিএনপির নেতা মরহুম আবদুল মতিন তোতার ছেলেদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং ‘নব্য বিএনপি’ সাজে। নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে ছবি তুলে, সেই ছবি এলাকায় দেখিয়ে সে আরও চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে তোলে।
এরমধ্যে গত ২১ আগস্ট জাহানারা বেগম নামে চরএলাহীর এক বাসিন্দা এরশাদ ডাকাতসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নামে এক যুবক চরকলমী এলাকায় নারকেল ডাব বিক্রি করতেন। এরশাদসহ কয়েকজন নুর ইসলামের কাছে দৈনিক ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এরশাদ ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইদ্রিছ আলী নামে একজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী শুক্রবার রাতে এরশাদ ডাকাত পালিয়ে আছে এমন খবরে একটি ঘর থেকে তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
এর আগে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ইদ্রিছ আলী আহত হওয়ার ঘটনায় তার বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিমল কর্মকার বলেন, এরশাদের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। পুলিশ প্রহরায় এরশাদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর