দিনের বেলায় ব্যস্ত সিলেট নগরী, রাত নামতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার কলোনি, রিকশার গ্যারেজ, টঙ দোকান কিংবা ভাসমান স্থানে প্রকাশ্যে বসে জুয়ার আসর।
জুয়াড়িদের ধরতে রাতেই চলে পুলিশের বিশেষ অভিযান।
গত এক মাসে (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৯টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৬ জন জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
দিন দিন বেড়ে চলা এই অপরাধপ্রবণতা সিলেট নগরীর সাধারণ মানুষকে ফেলেছে গভীর উদ্বেগে। জুয়ার নেশায় মত্ত হচ্ছেন দিনমজুর, তরকারি বিক্রেতা, হোটেল শ্রমিক এমনকি শিক্ষার্থীরাও।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, House of Fun, Slot Online, Online Casino, 1Win, BCGame, Melbet সহ অসংখ্য অনলাইনভিত্তিক জুয়ায় ঝুঁকছেন উঠতি বয়সি তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন।
এছাড়াও লুডু, গাফলা, ক্যারম খেলার নাম দিয়ে দেদারসে জুয়ার বোর্ড চলে। তীর শিলংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, সিলেটে গত এক মাসে (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর) বিভিন্ন এলাকার কলোনি, রিকশার গ্যারেজ ও অন্যান্য স্থানে বিশেষ অভিযানে ৫৬ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়।
চলতি মাসে নগরীর চৌকিদেখিস্থ আখড়াগলিতে পৃথক দুটি অভিযানে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
সর্বশেষ রোববারসিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিন জুয়াড়ি এবং একজনকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৪ অক্টোবর) মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানাধীন চৌকিদেখী আখড়াগলিস্থ মাওলানার কলোনীর একটি জুয়ার আসর থেকে মো. রুমন মিয়া, কবির মিয়া, বাদশা মিয়া এবং মাদক ব্যবসায়ী মুনিম আহমদ রাজুকে আটক করা হয়।
এর দুই দিন আগে একই কলোনীতে অভিযান চালিয়ে ছয় জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুয়ার আসরে পরিচালিত প্রতিটি অভিযান মধ্যরাতেই পরিচালনা করেছে পুলিশ।
আটক জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-৩ এবং নন-এফআইআর নং-১৩৩ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় বিমানবন্দর থানার ইলেকট্রিক সাপ্লাই কলবাখানী এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের পিছনে ‘নানীর বাড়ি’ নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়।
১২ সেপ্টেম্বর নগরীর শাহী ঈদগাহ থেকে পাঁচ জুয়াড়িকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জালালাবাদ থানা পুলিশ ১৩ সেপ্টেম্বর ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোগলগাঁও বাজার সংলগ্ন টিনসেড ঘরে অভিযান চালিয়ে সাত জন জুয়াড়িকে আটক করে।
এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে জুয়ার সরঞ্জামসহ নগদ কিছু অর্থ জব্দ করে পুলিশ।
১৪ সেপ্টেম্বর শাহী ঈদগাহস্থ খেলার মাঠে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে আটক করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন খোঁজারখলা ডি-ব্লকস্থ খসরু মিয়ার কলোনীর সুহেল মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে ছয় জুয়াড়িকে আটক করা হয়। একই দিন রাতে কোতোয়ালী থানাধীন রিকাবীবাজারস্থ নুরী হোটেলের পাশে রিকশার গ্যারেজ থেকে ভারতীয় তীর শিলং খেলার দায়ে আরও পাঁচ জনকে আটক করা হয়।
৩০ সেপ্টেম্বর ১০ জন জুয়াড়িকে দলদলি চা বাগান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাতের টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ইএইচ