চাঁদপুরে কালভার্ট নির্মাণ না করেই অর্ধকোটি টাকা বিল উত্তোলন

এমরান হোসেন রাজন, চাঁদপুর প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৫, ০৮:৪৯ পিএম

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গ্রামীণ রাস্তার ১৫ মিটার পর্যন্ত কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট নির্মাণ না করেই অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করেছে ঠিকাদার। বিষয়টিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, অর্থ লোপাটের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত এক বছর পার হলেও লোপাটকৃত অর্থ এখনও ঠিকাদারের কাছে রয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে গ্রামীণ রাস্তার ১৫ মিটার পর্যন্ত কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সূচিপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ গ্রামে তপাদার বাড়ি খালপাড়া এলাকায় ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের কালভার্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করার জন্য ঠিকাদার হিসেবে কাজ পান তাজুল ইসলাম সুমন।

কালভার্ট নির্মাণ স্থানের খালে পানি থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তারপরও কাজ না করেই ২০২৫ সালের মে মাসে বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা, উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার।

উপজেলার উন্নয়ন কাজের অগ্রগতির চিঠি অনুযায়ী এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। চলতি বছরের ২৯ মে চিঠিতে তৎকালীন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সবুজ এর স্বাক্ষর ও সীল রয়েছে। বর্তমানে তারা বদলি হয়ে অন্য জেলায় কর্মরত।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন নিশ্চিত করেছেন, কাজ না করেই ঠিকাদার অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা সরেজমিন গিয়ে জানিয়েছেন, ঠিকাদার কাজ করেননি। 

রাগৈ গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, “কাজ না করে টাকা উত্তোলন করেছে, শুধু কিছু পাথর রেখেছে ঠিকাদার।” 

আরেক বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, “কালভার্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি, এটি নির্মাণ হলে হাজার হাজার মানুষের সুবিধা হবে।” 

খালের দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা সালেহা বেগম ও মরিয়মেন্নেছা বলেন, “উপজেলা সদরসহ নানা কাজে যাতায়াত সহজ হবে কালভার্ট নির্মাণ হলে।”

ঠিকাদার তাজুল ইসলাম সুমন মুঠোফোনে বলেন, “ওই সময় পানির কারণে কাজ শুরু করতে পারিনি। কাজ না করে টাকা উত্তোলন করা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পিআইও এর সাথে যোগাযোগ করুন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, “রাগৈ গ্রামে কালভার্টের কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কালভার্ট নির্মাণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানিয়েছেন, “কাজ না করা কালভার্টের বিল উত্তোলন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো নির্মাণ হয়নি এমন কালভার্টের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”

ইএইচ