তাহিরপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নদীভাঙন রোধে বাঁশের বেড়িবাঁধ নির্মাণ

এনামুল হাসান, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ০৬:১০ পিএম

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদী থেকে বয়ে আসা শান্তিপুর পাটলাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমতৈল, শান্তিপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীভাঙনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের ফলে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অসাধু বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে নদী থেকে ট্রলারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং ভাঙনের গতি ভয়াবহভাবে বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ডক্টর মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার নির্দেশে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক-এর আর্থিক সহযোগিতায় ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জামাল মিয়া এবং ট্যাকেরঘাট ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আমতৈল গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে নদীর পাড়ে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে অংশ নেন।

গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মিত এই বেড়িবাঁধ স্থাপন করা হয় বিশ থেকে পঁচিশটি বাড়ীর সামনে, যেখানে নদীভাঙনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই অস্থায়ী বেড়িবাঁধ অন্তত সাময়িকভাবে নদীভাঙনের গতি কমিয়ে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমিকে রক্ষা করবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলেন, প্রশাসনের সহায়তা ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি তারা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “নদীভাঙন রোধে স্থানীয়দের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে আছে, আমরা ইতোমধ্যেই ভাঙন এলাকায় স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণ যদি সচেতন থাকে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেয়, তবে নদীভাঙনের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

পরিশেষে গ্রামের সাধারণ মানুষ ইউএনও মেহেদী হাসান মানিকের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি ও স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তিপুর পাটলাই নদী আবারও ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক রূপ, আর রক্ষা পাবে নদী তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা।

জেএইচআর