নোমানী ময়দান থেকে দোকান সরানোর নির্দেশ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৫, ১২:২৩ পিএম

মাগুরার ঐতিহ্যবাহী নোমানী ময়দান যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ঐতিহাসিক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল সেই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকানপাট সরাতে জেলা প্রশাসন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।

গত ২০ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোমানী ময়দান, অডিটোরিয়াম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন এলাকা সরকারিভাবে খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, যেখানে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে যারা ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন, তাদের ২২ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে এবং সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

এক কর্মকর্তা জানান, নোমানী ময়দান শুধু একটি মাঠ নয়, এটি মাগুরার ঐতিহ্যের প্রতীক। সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা যেমন বেআইনি, তেমনি এটি জনসাধারণের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগেও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল, এবার লিখিত নির্দেশ দেওয়া হলো।

এক দোকান মালিক বলেন, আমরা প্রায় এক বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। হঠাৎ সরতে বলা কঠিন। যদি বিকল্প কোনো জায়গা দেওয়া হয়, তাহলে চলে যাব।

অন্যদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলেন, নোমানী ময়দান শহরের হৃদয়। এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও অডিটোরিয়াম রয়েছে। জায়গাটি দখলমুক্ত রাখা জরুরি।

নোমানী ময়দান মাগুরার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বহু জনসভা, মেলা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান। তবে গত কয়েক দশকে মাঠসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠে দোকান ও স্থাপনা, যা মাঠের সৌন্দর্য ও উন্মুক্ততা নষ্ট করে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নোমানী ময়দানকে “ঐতিহাসিক মুক্তমঞ্চ ও সংস্কৃতি চত্বর” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দখলমুক্ত হলে এটি হবে শহরের মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল।

জেএইচআর