কুষ্টিয়ায় ক্লিনিকের আড়ালে দেহ ব্যবসা, তদন্তে পুলিশ

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৩:৩৪ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে অবস্থিত সততা ক্লিনিকের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে এলাকাবাসী এক অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেছে। 

গত ২০ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যখন এলাকাবাসী ক্লিনিকের ভেতর থেকে সন্দেহজনকভাবে সাতক্ষীরার এক নারী ও স্থানীয় এক পুরুষকে আটক করে। 

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকের মালিক আব্দুল মোমিন দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নারীদের এনে ক্লিনিকের আড়ালে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এলাকাবাসী একাধিকবার সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি, এমনটিও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। 

তারা আরও জানান, অনেক সময় সন্দেহজনক নারীদের ক্লিনিকে আসতে দেখা যেত, যা তাদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

ঘটনার পর ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পূর্বেও শোনা গেছে। তবে আব্দুল মোমিন আমাদের সমিতির সদস্য না হওয়ায়, আমরা সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি।”

এদিকে, ক্লিনিক মালিক আব্দুল মোমিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তার ফোন অন্য একজন ব্যক্তি রিসিভ করেন। ওই ব্যক্তি জানান, মোমিনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল হাসান তুহিনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আখতারুজ্জামান লিটন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্লিনিকের আড়ালে দেহ ব্যবসার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইএইচ