পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সুন্দরবন কুরিয়ার এজেন্সীর মাধ্যমে পপুলার টি ফ্যাক্টরীর ৬০০ কেজি চা পরিবহনের ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চা বোর্ড ও কাস্টমসের যৌথ প্রতিনিধি দল তদন্ত শুরু করেছে।
গত ১৬ অক্টোবর দৈনিক আমার সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই কুরিয়ার এজেন্সীগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চা পরিবহন করা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনের পরদিনই বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল দেবীগঞ্জে সুন্দরবন কুরিয়ার এজেন্সী ও পপুলার টি ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কুরিয়ার এজেন্সী চা বুকিংয়ের জন্য চা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পাঁচটি ডকুমেন্টের মধ্যে মাত্র দুটি ডকুমেন্ট প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। তবে চা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, প্রদর্শিত কাগজগুলো বৈধ নয়।
ফ্যাক্টরীতে গিয়েও প্রতিনিধি দল বৈধ মূসক ৬.৩ চালান বা ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টারের সঠিক তথ্য পাননি। এতে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি লিখিতভাবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং তারা এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খান বলেন, “কারখানা গেটে যদি কোনো সমস্যা পাওয়া যায় সেটি চা বোর্ড দেখে, এরপর বিষয়টি কাস্টমসের আওতায় পড়ে। আমরা লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানিয়েছি। আমি যে কাগজগুলো পেয়েছি, সেগুলো সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এজন্য কাস্টমসকে পর্যালোচনার অনুরোধ করেছি। অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে কাস্টমস আইনে শাস্তি হবে।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড় কাস্টমসের সহকারী কমিশনার খন্দকার সোলায়মান বলেন, “চা বোর্ড ও কাস্টমস যৌথভাবে কাজ করছে। আমাদের তদন্ত টিম বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয় কুরিয়ারে চা পাচার ঠেকাতে একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, চা বুকিংয়ের সময় কুরিয়ার এজেন্সীগুলোকে পাঁচটি বাধ্যতামূলক কাগজপত্র জমা রাখতে হয়—চা বোর্ড অনুমোদিত খুচরা, পাইকারি বা বিডার লাইসেন্সের ফটোকপি, ব্রোকার্স হাউজের ডেলিভারি অর্ডার, ওয়্যারহাউজের ভ্যাট চালান (মূসক ৬.৩), বিডার থেকে চা ক্রয়ের প্রমাণপত্র, প্রেরিত চায়ের গন্তব্য ও বিবরণসহ ব্যবসায়িক প্যাডে বিস্তারিত তথ্য। এছাড়া, প্রতিদিনের বুকিং তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে চা বোর্ডের ই-মেইলে পাঠানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চা বোর্ডের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেবীগঞ্জসহ পঞ্চগড় জেলায় একাধিক কুরিয়ার এজেন্সীর মাধ্যমে চা পরিবহনের অনিয়ম চলমান থাকায় স্থানীয় চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইএইচ