ফরিদপুর শহরতলীর বাইতুল আমান এলাকার বাইতুল আমান বাজারে অবস্থিত ‘মেঘলা জুয়েলার্স’ দোকানে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌণে চারটার দিকে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতদের হামলায় বাজারে পাহারারত দুই নাইট গার্ড গুরুতর আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরাতে বাইতুল আমান বাজারের নাইট গার্ড ফইজুদ্দিন বাজার পাহারা দিচ্ছিলেন। ডাকাতি চলাকালে তিনি মেঘলা জুয়েলার্সের দোকানের সামনে গেলে ডাকাতরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে জখম করে। ফইজুদ্দিন প্রাণ বাঁচাতে বাইতুল আমান জিরো পয়েন্টের দিকে দৌঁড়ে গেলে সেখানে উপস্থিত অপর এক নাইট গার্ড রহিমকেও ডাকাতরা কুপিয়ে জখম করে। বর্তমানে আহত দুই নাইট গার্ড ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতির পর ডাকাত দল লুটের মাল নিয়ে পালানোর জন্য একটি রিকশা এবং একটি ট্রাক ব্যবহার করে। রিকশায় তিনজন ডাকাত বসে থাকায় দেখা যায়। অন্যদিকে, ট্রাকে করে লুট করা আলমারি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং একজন লোক আলমারির পাশে বসেছিল। ফুটেজের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনায় দুইজন চালকসহ মোট ৬ থেকে ৭ জন ডাকাত অংশ নিয়েছিল।
ফরিদপুরের টেপাখোলা হরিসভার বাসিন্দা ও মেঘলা জুয়েলার্সের মালিক দিলীপ কুমার রায় বলেন, ভোর চারটার দিকে খবর পাই যে আমার দোকানে ডাকাতি হয়েছে এবং বাজারের দুই নাইট গার্ড আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে এসে দেখি দোকানের তালাগুলো কাটা এবং আলমারি নেই। সিন্দুক ও আলমারিতে স্বর্ণালংকার রেখেছিলাম। পরে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে জানানো যাবে।
এদিকে, মেঘলা জুয়েলার্স থেকে লুট হওয়া আলমারিটি পরবর্তীতে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের কানাইপুর এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এরপর স্থানীয়রা এই ঘটনার ছবি তুলে এবং তথ্য দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যার ফলে দ্রুতই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলমারিটি উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, দুস্কৃতিকারীরা শহরের বাইতুল আমান বাজারে স্বর্ণের দোকানের তালা কেটে একটি স্টিল কেবিনেট নিয়ে গেছে। এ সময় বাজারের দুই নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে জখম করেছে। কেবিনেটের মধ্যে অল্প কিছু টাকা, রূপা ও হিসাবের খাতাপত্র ছিল। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেএইচআর