ফরিদপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর ধর্ষণে আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

ফরিদপুরে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক নারীকে (২১) ধর্ষণের দায়ে আসামি মো. ইসমাইল শেখ (৪৭) কে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভিন এই রায় দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উক্ত অর্থ আদায় করে জেলা কালেক্টর ভিকটিমকে প্রদান করবেন বলে রায়ে উল্লেখ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় প্রদান করা হয়। এসময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামি মো. ইসমাইল শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর খাড়া পাড়া গ্রামের আমিন শেখের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কবির মোল্লার পাটক্ষেতে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। এই বিষয় নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠকে আসামী মো. ইসমাইল শেখ ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি সালিশ থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে মেয়েটি ২০২৩ সালের ৬ জুন বিকালে নিজ বাড়িতে মৃত সন্তান জন্ম দেন। ঘটনার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে পুলিশ নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ২০২৩ সালের ৯ জুন একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন।

তিনি বলেন, আসামী মো. ইসমাইল শেখকে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে ফরিদপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন এবং একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। জেলা কালেক্টর আসামির জমি-জমা বিক্রি করে অর্থ ভিকটিমকে প্রদান করবেন। এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে সন্তুষ্ট।

জেএইচআর