ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়ায় অবস্থিত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
প্রায় এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। শুধু ময়মনসিংহ নয়, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষও চিকিৎসার জন্য এখানে ভিড় করেন। ফলে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী, শিশু, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, চক্ষু ও নাক–কান–গলাসহ প্রায় সব বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ল্যাব টেস্টসহ আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধাও চালু রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বেডের ঘাটতির কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ভর্তি রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের ভিড়, করিডোরে রোগী ভর্তি এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতার কারণে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বহির্বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, আর জরুরি বিভাগেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় অধিকাংশ রোগীকে।
একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তা সামাল দিতে জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতি বছর এখান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে।
বর্তমানে হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সেবাগ্রহণকারীরা।
রোগীর স্বজন ফাতেমা বেগম বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এত রোগীর ভিড়ে ভালো সেবা পাওয়া কঠিন। সরকার যদি দ্রুত বেড ও জনবল বাড়ায়, আমরা আরও উন্নত চিকিৎসা পেতাম।
আরেক স্বজন জয়নাল আবেদীন বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। সড়কের দুই পাশে হকার আর অ্যাম্বুলেন্সের দখল। প্রশাসন এ বিষয়ে নিরব।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নে দেরির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, জনবল সংকট ও চিকিৎসকের চাহিদা পূরণ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, রোগীর অতিরিক্ত চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানানো হয়েছে।
জেএইচআর