শেষ হয়েছে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রে ছুটছেন জেলেরা

সুমন মোল্লা, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৩:৫০ পিএম

২২ দিনের মা ইলিশ সুরক্ষার নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে আজ মধ্যরাত থেকে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়াতে খুশি মনে উপকলীয় জেলেরা ট্রলার, জাল-দড়ি নিয়ে ছুটছেন সাগর ও নদীতে। 

রাত বারোটা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বঙ্গোপসাগরের মোহনা বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে মাছ শিকার করে ভোরের আলো ফোটার আগেই ইলিশ নিয়ে অনেক জেলে হাজির হয়েছেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকারি মৎস্য বাজারে। মাছের স্বল্পতার কারণে চড়া দামে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়ায় খুশি মনে তারা বাড়ি ফিরছেন।

মৎস্য আড়তদারদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ছোট ট্রলারে খুঁটাজাল ও ভাসাজাল ব্যবহার করে ২০ থেকে ৩০ কেজি ইলিশ নিয়ে জেলেরা উপকূলে ফিরে আসেন। নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী প্রথম দিনেই ইলিশের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 

বাজারে এক মন জাটকা ইলিশ (২শ থেকে ৩শ গ্রাম) ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা দরে, ৫শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মন এবং এক কেজি ওজনের ওপরে প্রতিমন ইলিশ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে, যা নিম্নভিত্তি ও মধ্যভিত্তির মানুষের নাগালের বাইরে।

বিষখালী নদীর জেলে মনির হোসেন, এমাদুল হোসেন এবং বলেশ্বর নদীর জেলে জাকির হোসেন, সগীর হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, দুই থেকে তিন বছর ধরে নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় না। কিছু অসাধু জেলের কারণে বড় ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধ কারেন্ট জাল, ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে সব ছোট ইলিশ শিকার করা হয়। তাছাড়া প্রকৃত জেলেরা অনেকেই সরকারি সহায়তা থেকে দূরে থাকেন। যারা মেম্বার এবং চেয়ারম্যান, তারা নিজেদের পছন্দমত লোকজনকে সরকারী সহায়তা দেন যাতে নির্বাচনের সময় ভোট ঠিক থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত, তা না হলে আমরা যে মাছে ভাতে বাঙালি তা ভুলে যাব এবং আমাদের মৎস্য শিল্প আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর ধরে ইলিশ মাছ নেই বললেই চলে। যা উঠে তার দামও চড়া এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সমুদ্র এবং মৎস্য ঘাটে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং ট্রলার এবং গভীর সমুদ্রে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। অবৈধ ট্রলিং ট্রলার মাছের ডিম থেকে শুরু করে সকল রকমের মাছের পোনা ধ্বংস করে ফেলে। মাছের ডিম এবং পোনা ধ্বংস হলে বড় মাছ পাওয়া যাবে না, বরং উপকূলের হাজারো মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, গত কয়েক বছর ধরে সমুদ্রের উপর নিম্নচাপ লেগেই আছে। জেলেরা যখন বাজার-সওদা করে জাল নিয়ে সাগরে যাত্রা শুরু করে, তখনই নিম্নচাপ শুরু হয়। এর কারণে অনেক জেলে নিঃস্ব হয়ে গেছে। 

একদিকে ৬৫ দিন ও ২২ দিনের অবরোধ, অপরদিকে সাগরে নিম্নচাপ—এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা। তাছাড়া সঠিক সময় জেলেরা সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো পান না। মৎস্য উপদেষ্টার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নদীতে মাছ শিকার করা সকল জেলেদের তালিকা করে তাদেরকে ভর্তুকি দেওয়া উচিত এবং অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং ট্রলারগুলো বন্ধ করা উচিত।

ইএইচ