জনগণের নিরাপত্তায় আমরা আছি এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের উদ্যোগে দিনব্যাপী সতর্কতা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে মোটরসাইকেল বহরের এ সতর্কতা মহড়ার সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের মাথায় হেলমেট না থাকায় সাধারণ মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
বুধবার দিনব্যাপী জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই মহড়ায় নেতৃত্ব দেন আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত হোসেন। তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেল যোগে উপজেলা জুড়ে টহল ও মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহড়ার অংশ হিসেবে থানার পুলিশ সদস্যরা আলফাডাঙ্গা বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল স্থান ও গ্রামীণ এলাকায় টহল দেন। এ সময় তারা জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা কামনা করেন।
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিয়াকত হোসেন বলেন, আসলে হেলমেট পড়া উচিত ছিল। কিন্তু হেলমেট পড়লে ওইভাবে আমরা যে মুভ করতেছি তা বোঝা যেত না। গাড়ি-পোশাক দেখেই মানুষ পুলিশ সদস্যদের চিনতে পারে। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের জরিমানা করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেলমেট মূলত নিরাপত্তার জন্য পড়া। এখন সেখানে আমাদের নিরাপত্তা জরুরি ছিল না, কারণ আমরা নিজেই টহল দিচ্ছিলাম। পড়লে ভালো হতো। তবে আমরা স্বল্প জায়গায় ঘুরাঘুরি করেছি। আমাদের হেলমেট পড়া উচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্যই হেলমেট পড়ব।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন, আমি তখন ফরিদপুরে ছিলাম। বিষয়টি জানার পরও দেখছি। যদি এমন ঘটনা ঘটে, পরবর্তীতে তা এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা পান্না বলেন, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট না পড়া একটি অপরাধ। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালালে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। অবশ্যই তাদের হেলমেট পড়া উচিত ছিল। আইনের রক্ষক যদি নিজেই আইন ভঙ্গ করে, তা শুধু আইন ভঙ্গ নয়, আইনের প্রতি উদাসীনতার প্রতীকও বটে।
জেএইচআর