দশ ইটভাটায় জ্বলছে আগুন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বহাল

ইয়ামিন হাসান, সাঘাটা প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় দশটি ইটভাটায় আগুন জ্বলছে, অথচ অধিকাংশই অবৈধ ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) বোনারপাড়া জোনাল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসব ভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইটভাটার চিমনি থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব ধোঁয়া ও ধূলিকণা বায়ুদূষণ বাড়িয়ে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখে জ্বালা-পোড়া এবং নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করছে।

সাঘাটা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভাটাগুলোতে কাঠ ও কয়লা জ্বালানির কারণে আশপাশের বনজ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফসলের জমি ধ্বংস হচ্ছে এবং মাটির উর্বরতা কমছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভাটার ধোঁয়ায় নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যও দায়ী। ভাটা মালিকদের মতে, এসব কয়লা গাবতলী, সিলেট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অবৈধ ভাটাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বোনারপাড়া জোনাল অফিসে ঘুষ দিতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটা মালিক জানান, সংযোগ না নিলে ভাটা চালানো অসম্ভব।

এ বিষয়ে বোনারপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “যে সময় এসব ভাটায় সংযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। অচিরেই আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ্ তমাল বলেন, “অবৈধ ও পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কেউ রেহাই পাবে না।”

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষক অমিত রায়হান বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় এসব অবৈধ ইটভাটাকে দ্রুত বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

ইএইচ