হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ডাক্তার ও ওষুধ সংকট, রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই

মীর মো. আব্দুল কাদির, হবিগঞ্জ প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম

হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যা বসবাস করছে। উপজেলা পর্যায়ে নামমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সেবার মান তেমন নেই। তাই রোগীদের বড় অংশ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালটি নামেই আধুনিক হলেও বাস্তবে আধুনিকতার ছোঁয়া নেই।

প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার জন্য নির্মিত হলেও পরে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে ডাক্তার গড়ার প্রতিষ্ঠান, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে সদর হাসপাতালে ৫৭ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে এখানে মাত্র ২২ জন ডাক্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আমিনুল হক সরকারের সাথে আলাপকালে জানান, “ডাক্তার ও ওষুধের সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করি, আগামী ডিসেম্বরে ১৫ হাজার ডাক্তার একসাথে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকায় নতুন ডাক্তার আসার ফলে সংকট দূর হবে। এছাড়া আসন্ন বাজেটে ওষুধ খাতে সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করবেন।”

তবে অভিযোগ আছে, একাধিক ডাক্তার নিয়মিত হাসপাতালে না এসে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক রোগী ডাক্তার দেখাতে পারেননি।

ডাক্তার যে ওষুধ লিখে দেন, তার মধ্যে পাঁচটির পরিবর্তে রোগীরা প্রায় একটিই ওষুধ পান। ফলে বাকি চারটি ওষুধ প্রাইভেট ফার্মেসি থেকে কয়েকগুণ দামে কিনতে হয়। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি হাসপাতালে এসে সেবা ও ওষুধ না পেয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা অনেক সময় দালালদের কপালে পড়তে হয়। আরও বড় সমস্যা হলো, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ডাক্তারদেরকে ঘিরে রেখেই ওষুধ সাপ্লাই ও সুযোগ সুবিধার ব্যস্ততা তৈরি করছেন, যার কারণে রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বর্তমানে হাসপাতাল প্রতিদিন ৬০০-৭০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তবে শয্যার সংখ্যা ২০০-এর কম। গুরুতর রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল পরীক্ষার যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত না থাকায় রোগী ও স্বজনদের প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটাছুটি করতে হয়।

হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষ আশা করছে, হাসপাতালের ডাক্তার ও ওষুধের সংকট দ্রুত দূর করা হবে, যাতে সকলেই সঠিক চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারেন।

ইএইচ