যশোর-২ আসনে বিএনপির কপালে চিন্তার ভাঁজ, উচ্ছ্বসিত জামায়াত

এম এ রহমান, যশোর প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবিরা সুলতানা মুন্নি। তবে ঘোষণার পর দুই উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। 

তাদের বক্তব্য, ঘোষিত প্রার্থী নিয়ে জামায়াতের ঘাঁটিখ্যাত এই আসনে লড়াই কঠিন হবে। কারণ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ দলীয় প্রভাবের বাইরে বিভিন্ন সমীকরণে এগিয়ে রয়েছেন।

যশোর-২ আসনটি ঝিকরগাছা ও চৌগাছা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। গত চারটি একতরফা সংসদ নির্বাচনের তিনটিতে আওয়ামী লীগ ইচ্ছামতো প্রার্থী দিয়ে জয় নিশ্চিত করেছিল। তবে এবার মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নি জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক প্রয়াত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন।

জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। তিনি যশোরের খড়কী পীর বাড়ির সন্তান এবং আদ্ব-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের শ্যালক। ঝিকরগাছা-চৌগাছাজুড়ে তার সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।

স্থানীয় নেতারা জানাচ্ছেন, সাবিরা সুলতানা মুন্নি মনোনয়ন পেয়েছেন দলীয় সহানুভূতির কারণে। তবে ভোটারদের সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা কম এবং চৌগাছার সাধারণ জনগণের কাছে তিনি নতুন মুখ। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ভোটের মাঠে জামায়াতের প্রার্থীকে টেক্কা দেওয়া কঠিন হবে।

ঝিকরগাছা বাজারের ভ্যান চালক মহিনূর আলী বলেন, “জামায়াতের নেতাকর্মীরা নারী নেতৃত্ব হারাম বলে প্রচার শুরু করেছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছে। এ অবস্থায় সাবিরা মুন্নির জন্য ভোটের লড়াই কঠিন।”

অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, নেতাকর্মীরা মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও ভোটে এর প্রভাব পড়বে। তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রার্থী যেই হোক, সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির রিটন বলেন, “দল বড়, নেতার চেয়ে বড়। সকলেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন এবং বিজয় নিশ্চিত করবেন।”

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত নয়। যথাযথ সমন্বয় ও নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে যশোর-২ আসনে শক্তিশালী লড়াই করা সম্ভব।

ইএইচ