রংপুরের উন্নয়নে তিন দফা রোডম্যাপ: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রিটা রহমানের প্রতিশ্রুতি

সুজন আহম্মেদ, রংপুর প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম

রংপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনটি প্রস্তাবনাভিত্তিক রোডম্যাপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রংপুর-৩ সদর আসনে বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী রিটা রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর রাধাবল্লভ এলাকার নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, পেশাজীবী, তরুণ ভোটার ও নিজ দলের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিটা রহমান বলেন, “রংপুর ছিল একসময় দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। কিন্তু বছরের পর বছর অবহেলা ও রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে এই অঞ্চল তার স্বাভাবিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি যদি জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে যেতে পারি, তাহলে রংপুরের হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনাই হবে আমার প্রথম অঙ্গীকার।”

তিনি জানান, রংপুরের সাধারণ মানুষ এখনও অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার, সুযোগ সুবিধা বা সরকারি সেবা পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। ফলে তারা নানানভাবে বঞ্চিত হন। রিটা রহমান বলেন, “মানুষকে অধিকার সম্পর্কে সচেতন না করলে কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হবে না। তাই নির্বাচনী এলাকায় ‘অধিকার সচেতনতা ক্যাম্পেইন’, সেবামূলক হেল্পডেস্ক এবং গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় জনশুনানি কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সেবার ক্ষেত্রে তদবিরনির্ভরতা কমিয়ে ন্যায়-অবিচারের সুষম পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেন, “রংপুরে ন্যায্য সুযোগের অভাব রয়েছে। শিক্ষায়, কর্মসংস্থানে ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লড়াই চালিয়ে যাব।”

অর্থনীতি নিয়ে তিনি বলেন, “একসময় বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প ও শিক্ষায় রংপুর ছিল স্বাবলম্বী শহর। সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারে পরিকল্পিত উন্নয়ন জরুরি।” তিনি জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তা, কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণসহায়তা এবং যুবসমাজকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

রিটা রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, আওয়ামী লীগের আমলে প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি রংপুর-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে যে অবস্থান তৈরি করেছেন, তা তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “রংপুর সদর আসন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি যখন প্রতিকূল সময় পার করেছে, তখনও আমি এখানে মানুষের পাশে থেকেছি। তাই দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা আমাকে বিবেচনা করবেন বলে আমি আশাবাদী।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “রংপুরের উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম। আমি তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারা, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানাই। যে রংপুরকে সবার কাছে আধুনিক ও উন্নত শহর হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই, সেই শহর গড়তে তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।”

রিটা রহমান যোগ করেন, “রংপুরের মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতার প্রশ্নে আমি আপোষ করি না। তিনটি প্রস্তাবনার ভিত্তিতে রংপুরকে আবারও সমৃদ্ধ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানে নির্বাচন করেছি, জনগণের পাশে থেকেছি— তাই আশা করছি দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।”

ইএইচ