গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসএম কামরুল হাবিব সুমন (৫২) নামের এক স্কুলশিক্ষক এবং এক নারী শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক এসএম কামরুল হাবিব সুমন জামালপুর মজিদিয়া দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
অপরদিকে অভিযুক্ত নারী শিক্ষিকা কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলার পশ্চিম কেশালীডাঙ্গা কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষিকার স্বামী কুড়িগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। এ সুযোগে সুমন মিয়ার সঙ্গে শিক্ষিকার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই কারণে সুমন মিয়া প্রায়ই শিক্ষিকার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে শিক্ষক সুমন গোপনে ওই শিক্ষিকার বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পায়। পরে তারা কৌশলে বাড়ি ঘেরাও করে দু’জনকে একটি কক্ষ থেকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা।
পরদিন বুধবার সকালে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ এসে পরকীয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শিক্ষিকা নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “তিন বছর আগে আমার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তারপর থেকে আমি আলাদা বাড়িতে বসবাস করছি। শিক্ষক সুমনকে আমি ‘ভাই’ বলে ডাকতাম এবং সেই সুবাদে তার যাতায়াত ছিল। আমাদের মধ্যে কোনো অসামাজিক সম্পর্ক নেই।”
কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ আর এম মাহফুজার রহমান বলেন, “স্থানীয়দের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।”
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দিন খন্দকার বলেন, “পরকীয়ার অভিযোগে আটককৃত ওই শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে বুধবার বিকাল আড়াইটার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
ইএইচ