শরীয়তপুর জেলা শহরসহ ছয়টি উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বহু স্থানে মাদক বেচাকেনার স্পট গড়ে ওঠায় বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান সীমিত ও দায়সারা হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং স্কুল রোড, সাবনুর মার্কেট, বিলাশ খান, প্রেমতলা বাগিয়া, পাকার মাথা, আটিপাড়া, মনোহর বাজার, বুড়িরহাট, গঙ্গানগর, চিকন্দী বাজার এসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে। এছাড়া নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট, জাজিরা ও ডামুড্যা উপজেলায় অন্তত কয়েক ডজন স্পটে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যা বা দিনের বেলা এসব স্পটে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা মাদক কেনাবেচা হয়। কিছু অসাধু রাজনৈতিক কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ব্যবসাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ভেদরগঞ্জের বালারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবু মাদক প্রবাহ থামছে না। স্থানীয়রা জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না।
গোসাইরহাটের একাধিক রাজনৈতিক নেতার অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় প্রশাসন চুপ থাকে।
মাদকাসক্তদের উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। নেশার টাকা জোগাতে তারা চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধে জড়াচ্ছে।
শরীয়তপুর জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার আমার সংবদকে বলেন, মাদকাসক্তদের কারণে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে।
সখিপুর থানার (ওসি) ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে ও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার (ওসি) মো. নাজমুল হাসান বলেন, গত দুই মাসে ২৬টি মামলা করেছি এবং নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
গোসাইরহাট থানার (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন জানান, গত সাত দিনে মোবাইল কোর্টে জরিমানা ও সাজা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অভিযান ছাড়া শরীয়তপুরে মাদকের ভয়াবহতা থামানো সম্ভব নয়।
জেএইচআর