হাজীগঞ্জে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম: চার প্রতিষ্ঠানে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা দুই ক্ষেত্রেই ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। পচা–বাসি খাবার পরিবেশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে বাজারের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইমরান। তার সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়ে হাজীগঞ্জ বাজারের আল মদিনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। অভিযোগ ছিল—চাইনিজ খাবারের নামে এখানে পরিবেশন করা হচ্ছিল কয়েক দিন ধরে ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার। রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল নোংরা, পোকামাকড়ে ভরা এবং খাদ্য সংরক্ষণে ছিল মারাত্মক ত্রুটি।

পর্যবেক্ষণে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।

হাজীগঞ্জের স্থানীয় জনগণের কাছে পরিচিত শাহজালাল মেমোরিয়াল হাসপাতালেও অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। হাসপাতালের স্টোররুম থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন, ব্যান্ডেজ, স্যালাইন এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী। রোগীদের চিকিৎসায় এগুলো ব্যবহার করা হলে হতে পারত মারাত্মক ঝুঁকি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেই এসব সামগ্রী ধ্বংস করেন।

বাজারের মেডিসিন কর্নার নামে একটি ওষুধের দোকানেও পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও শিশুদের সিরাপ। দোকানের মালিক কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অবশেষে, বাজারের আরেকটি সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া মডার্ন—এও খাদ্য ও পণ্যে অনিয়ম পাওয়া যায়। সেখানে ছিল সঠিক মূল্য তালিকা না থাকা ও ভেজাল মশলার অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, পচা খাবার ও মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল বিক্রি করার অভিযোগ পেয়েই আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি চলবে। প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু জরিমানা নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ার পর বাজারের সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্রেতারা বলছেন, খাবার বা ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও যদি ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করেন, তবে সাধারণ মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়ে।

এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা টাকা দিয়ে ভরসা করে খাবার কিনি, চিকিৎসা নিই। সেখানে যদি পচা বা মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের বাঁচারই উপায় থাকে না।

জরিমানার পর ওই চার প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার আশ্বাস দেন। বাজারের অন্যান্য দোকানেও ভোক্তা অধিকারের দলের উপস্থিতির কারণে সতর্কতা বেড়ে যায়।

ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত মনিটরিং না হলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে। তাই চলমান তদারকি আরও জোরদার করা হবে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এই অভিযান দেখিয়ে দিল, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম এখনো বড় সমস্যা। সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান আরও ঘনঘন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই কারণ মানুষের জীবন কোনও পরীক্ষার উপকরণ নয়।

ইএইচ