গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার মূল আয়োজনের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলমান পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমায় আরও একজন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
মৃত ব্যক্তির নাম চাঁন মিয়া (৬০)। তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা হলেও জীবিকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রঘুনাথপুর এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। ইবাদতের টানেই তিনি এবার জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে টঙ্গীর ময়দানে আসেন। জুমার নামাজের পূর্বমুহূর্তে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে আশপাশের মুসল্লিরা দ্রুত তাকে ইজতেমা ময়দানের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জোড় ইজতেমা শুরুর আগেই নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. নুর আলম (৮০) নামের আরও এক মুসল্লি ঘুমন্ত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাতের শীত ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রমাগত দুই মুসল্লির মৃত্যুতে জোড় ইজতেমার পরিবেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত দুজনের সাথী, পরিবার থেকে আগত লোকজন ও উপস্থিত জামায়াতের সদস্যরা তাদের জন্য দোয়া করেন। ইজতেমা আয়োজক কর্তৃপক্ষ মৃতদের দাফনকার্য ও পরিবারকে সহযোগিতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান সময় সংবাদকে জানান, শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মাধ্যমে এই বছরের জোড় ইজতেমা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি ইতিমধ্যেই ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে শুরুর আগের রাতে নুর আলম সাহেবের মৃত্যু এবং আজ জুমার নামাজের সময় চাঁন মিয়ার মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, ইজতেমা এলাকায় চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। বয়স্ক মুসল্লিদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার আগমুহূর্তে প্রতিবছর টঙ্গীর তুরাগতীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় ‘জোড় ইজতেমা’। এটি মূলত জাতীয় পর্যায়ের সাথীদের জমায়েত, মাঠের প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমকে ঘিরে আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রধান ইজতেমা সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে তাবলিগের বিভিন্ন মারকাজ থেকে আগত সাথীরা এখানে অংশ নেন।
এই বছরও শুরায়ি নেজামের তত্ত্বাবধানে পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমায় চলছে ওয়াজ-নসিহত, দাওয়াতি পরামর্শ, খেদমতের বণ্টন এবং মাঠ সাজানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। মুসল্লিদের থাকার জায়গা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দল মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আসন্ন মঙ্গলবার ২ ডিসেম্বর সকাল থেকে আমবয়ান ও দোয়ার পর্ব শেষ করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে জোড় ইজতেমা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। হাজারো মুসল্লি তখন অংশ নেবেন বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে।
চাঁন মিয়া ও নুর আলমের মৃত্যুতে ইজতেমার মাঠে শোকাবহ পরিবেশ থাকলেও মুসল্লিরা জানান, আল্লাহর পথে বের হয়ে মৃত্যু পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয় এই বিশ্বাস থেকেই সবাই সবুর ও খুশু-খুজু নিয়ে ইবাদত অব্যাহত রেখেছেন।
ইজতেমা মাঠে কর্তব্যরত মেডিকেল টিম ও প্রশাসনের সহায়তায় মৃত দুজনের মরদেহ পৃথকভাবে তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। আপাতত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কা নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে।
টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন বড় সমাবেশে বয়স্ক ও অসুস্থ মুসল্লিদের জন্য বিশেষ মেডিকেল সাপোর্ট বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
ইএইচ