মাগুরায় ভিডব্লিউবি কার্ড বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্ড বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনায় প্রকৃত দরিদ্র, স্বামীহারা নারী, আয়ের উৎসহীন পরিবারপ্রধান নারী ও অবিবাহিত মেয়েশিশু থাকা পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সচ্ছল, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা অধিক সুবিধা পেয়েছেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়নে ৩২৪টি ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু ইউপি সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পাকা দালান, সরকারি চাকরি, বড় ব্যবসা বা পর্যাপ্ত জমি থাকা পরিবারের অন্তত ৫০টির বেশি নাম চূড়ান্ত তালিকায় এসেছে। এছাড়া কয়েকজন কলেজ শিক্ষার্থীর নামও পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৃষ্টি রানী ঘোষ ও শাপলা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলজান নেছা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সালমা খাতুন এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিথী, রুমকি ও সাদিয়াসহ অনেকেই পাকা ভবনের মালিক হয়েও কার্ড পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী দরিদ্র নারী রহিমা বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর, জমি নেই, ঘরে অবিবাহিত মেয়ে আছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে বারবার বলেছি, তবুও কার্ড পাইনি। কিন্তু পাশের বাড়ির যাদের বিল্ডিং আছে, তাদের কার্ড হয়েছে। একই অভিযোগ করেন মোছা. আফিয়া বেগম, আমরা কি গরিব না?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডব্লিউবি সুবিধা এখন ইউপি সদস্যদের স্বজন, গ্রাম্য মাতব্বর ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের মাঝে বণ্টিত হচ্ছে। এতে প্রকৃত অসহায় নারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন বলেন, ওয়ার্ড সদস্য, মসজিদ–মন্দির কমিটি ও স্থানীয়দের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা হয়েছে। অভিযোগ থাকলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, তালিকায় অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে সংশোধন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাখী ব্যানার্জী জানান, ভিডব্লিউবি নিয়ে অভিযোগ আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীর অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তারা সবাই একমত স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র নারীদের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

জেএইচআর