নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট ইসমাইল ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র আনোয়ার হোসেন সাব্বির (২০) কে হত্যার প্রতিবাদে চাপরাশিরহাট বাজারে এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও কালো ব্যাজ ধারণ করে এই মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা সাব্বির হত্যাকাণ্ডকে “নৃশংস ও পরিকল্পিত” উল্লেখ করে বলেন, আমরা সাব্বির হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করে ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাব্বির ছিলেন একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা শান্ত স্বভাবের ছাত্র। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও কলেজের সহপাঠীদের মধ্যে চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রসংগত, এর আগে চর গুল্যাখালী গ্রামের পান বেপারী বাড়ির মানোয়ারা বেগমের ক্ষেতের লাউ গাছ কেটে ফেলে শামীম। ক্ষতিগ্রস্তের পরিবার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা অপরাধীকে হাতেনাতে ধরতে পরামর্শ দেয়।
গত বুধবার বিকেলে পুনরায় মরিচ গাছের চারা কেটে ফেলার সময় শামীমকে দেখে ফেলে আনোয়ার হোসেন সাব্বির। সাথে সাথে তাকে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে সাব্বির ও তার মাকে মারধর করে এবং সাব্বিরকে মাথায় কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাব্বিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
জেএইচআর