কর্মবিরতিতে সহকারী শিক্ষকরা: অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বার্ষিক পরীক্ষা চলছে

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২৫, ০৫:১৮ পিএম

সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতির প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়। 

উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার একযোগে তৃতীয় পর্যায়ের প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্কুলেই ছিল না পর্যাপ্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে নেমে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলা, হলরুমে চেঁচামেচি, ইচ্ছেমতো ওঠানামা, অনিয়ন্ত্রিত কক্ষ পরিবেশ, আর দিশেহারা শিশুশিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন মুখ।

সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একজন প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির ওপর সম্পূর্ণ পরীক্ষার দায়িত্ব চাপায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একাধিক কক্ষে একসঙ্গে নজরদারি করতে না পারায় পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পুরোপুরি মনিটরিং ভেঙে পড়েছে।

নুরপুর মালঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে হতবাক হন অভিভাবক আক্তার হোসেন। 

তিনি বলেন, “সকালে এসে দেখি কোনো সহকারী শিক্ষক নেই। আগে কেউ আমাদের জানায়নি যে তারা পরীক্ষা বর্জন করছেন। সারা বছর বাচ্চারা পড়াশোনা করে আজ পরীক্ষা দিতে এসে এমন বিশৃঙ্খলা! খাতা দেওয়ার মতো কেউ নেই, এভাবে পরীক্ষা হলে শিশুর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। বরং পরীক্ষা বন্ধই করে দেওয়া উচিত।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল জানান, “শিক্ষার্থীরা সারা বছর পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিয়েছে এ অবস্থায় পরীক্ষা না নিলে তাদেরই ক্ষতি। সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করায় একাই সব সামলাতে হচ্ছে।”

এদিকে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির বাগাতিপাড়া উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক শামীম শাহরিয়ার দাবি করেন, “জাতীয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি চলছে। তাই আমরা পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করিনি। দাবি আদায় হলে আগের মতোই দায়িত্বে ফিরব।”

বাগাতিপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল বাসার শামসুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। তবে সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চলতে থাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশে মূল্যায়ন সঠিক হওয়া অসম্ভব, বরং শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএইচ