তামাক ও ধুমপানজনিত রোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সফল করতে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবিতে খুলনায় এক বিশাল র্যালী ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে 'স্বাস্থ্যই সম্পদ, তামাক নয়' এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নিউমার্কেট থেকে শিববাড়ী পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। নাইস ফাউন্ডেশন, খুলনার বাস্তবায়নে এবং তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা তামাকের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তামাক কেবল গ্রহণকারীকেই নয়, বরং সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোকিংয়ের মাধ্যমে যারা তামাক সেবন করে না, তাদেরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, তামাকের কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে বিশাল বোঝা সৃষ্টি হচ্ছে।
তাঁরা দ্রুত আইনের সংশোধনী পাশ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। বক্তারা বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে শতভাগ ধুমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, তামাকজাত দ্রব্যের খুচরা বিক্রি (সিঙ্গেল স্টিক) বন্ধ করা, ই-সিগারেটসহ সকল নতুন তামাকজাত পণ্যকে আইনের আওতায় আনা এবং তামাক কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি তোলেন। বক্তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন, তামাক মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আইন বদলাও, এখনই উপযুক্ত সময়।
র্যালী ও মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর গুরুত্ব জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং আইন মন্ত্রণালয় এর মনোযোগ আকর্ষণ করে দ্রুততম সময়ে বিলটি পাশ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
জেএইচআর